কর্পোরেট আড়ালে ‘সেক্স র্যাকেট’ ও ধর্মান্তরের ছক! টিসিএস কাণ্ডে এবার মালয়েশিয়া-যোগ, রহস্য আরও ঘনীভূত
নাসিকের টিসিএস (TCS) অফিসে যৌন হেনস্থা এবং ধর্মান্তরকরণের যে ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এসেছে, তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের মতো প্রথম সারির একটি কর্পোরেট সংস্থায় কীভাবে গোপনে এই ধরনের ‘চক্র’ চলত, তা নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং দায়ের হয়েছে ৯টি এফআইআর। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, তদন্তকারীরা এই ঘটনার পেছনে মালয়েশিয়া-নিবাসী এক প্রচারকের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন, যা বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।[TECHTARANGA-POST:8017]ঘটনার সূত্রপাত গত ফেব্রুয়ারি মাসে, যখন এক রাজনৈতিক কর্মীর কাছ থেকে পুলিশ খবর পায় যে অফিসের এক হিন্দু মহিলা কর্মীকে জোর করে রমজানের রোজা রাখতে এবং ধর্মীয় নিয়ম মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। এরপরই পুলিশ ‘অপারেশন’ শুরু করে। চারজন পুলিশ কর্মী সাফাই কর্মীর ছদ্মবেশে টানা দু’সপ্তাহ ওই অফিসে কাজ করেন এবং গোপনে সব তথ্য জোগাড় করেন। তাঁদের রিপোর্টে উঠে আসে, দলনেতা হিসেবে থাকা কয়েকজন কর্মী ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণীদের ওপর পাশবিক অত্যাচার চালাতেন। অভিযোগ রয়েছে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার। এমনকি আপত্তিজনক আচরণে সায় না দিলে তরুণীদের ওপর কাজের চাপ বাড়িয়ে দেওয়া বা ভয় দেখিয়ে ভিন্ন ধর্মের রীতি পালনে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগও মিলেছে।[TECHTARANGA-POST:8007]গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দানিশ শেখ, আসিফ আনসারি এবং শাহরুখ কুরেশির মতো কর্মীরা। অভিযোগ, দানিশ শেখ নিজের বিবাহিত পরিচয় গোপন করে এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করেছেন। পলাতক রয়েছেন অফিসের এইচআর ম্যানেজার নিদা খান। পুলিশি তদন্তে আরও দেখা গিয়েছে, মালয়েশিয়ার এক প্রচারক ভিডিও কলের মাধ্যমে এই তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এই ‘বিদেশি সংযোগ’ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:8005]ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। বিজেপি নেতা বান্ডি সঞ্জয় কুমার একে ‘কর্পোরেট জিহাদ’ বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে, টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে জানিয়েছেন এবং অভিযুক্তদের সাসপেন্ড করেছে সংস্থা। তবে শিবসেনা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী টিসিএসের ভূমিকাকে ‘উদাসীন’ বলে সমালোচনা করেছেন। কর্মস্থলে নারী নিরাপত্তা এবং কর্পোরেট সংস্কৃতির আড়ালে থাকা এই অন্ধকার দিকটি এখন সারা দেশের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।