নিট কেলেঙ্কারির উত্তাপের মাঝেই দিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রকের ভবনে ভয়াবহ আগুন! পুড়ে ছাই রাশি রাশি গুরুত্বপূর্ণ নথি
নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই দেশের রাজধানী দিল্লিতে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর অগ্নিকাণ্ড। সোমবার সকালে দিল্লির আইটিও (ITO) এলাকার ‘স্কুল অফ প্ল্যানিং’ ভবনে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের একটি দফতরে এই ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় নিমেষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ৮টি ইঞ্জিন। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে দপ্তরের ভেতরে থাকা প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দানা বাঁধতে শুরু করেছে বড়সড় রহস্য।[TECHTARANGA-POST:9663]প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে নয়টা নাগাদ ওই সরকারি ভবনের দোতলা থেকে আচমকা গলগল করে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় দমকল বিভাগে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সকাল ৯টা ৩৭ মিনিট নাগাদ তাদের কাছে দুর্ঘটনার খবর আসে এবং তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে একে একে ৮টি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। দমকল কর্মীদের মরিয়া চেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয় এবং সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। তবে দপ্তরে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন বিধ্বংসী আগুন লাগল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে, তবে আসল রহস্য উদঘাটনে ইতিমধ্যেই পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9652]শিক্ষামন্ত্রকের ভবনে এই অগ্নিকাণ্ডের সময়কাল নিয়েই মূলত তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক। নিট প্রশ্নফাঁস এবং সিবিএসই (CBSE) পোর্টালের নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে এমনিতেই দেশজুড়ে মুখ পুড়েছে শিক্ষা মন্ত্রকের। খোদ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান গত শুক্রবার একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রশ্নফাঁসের জালিয়াতি এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র ব্যর্থতার কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন। [TECHTARANGA-POST:9639]এই মহা-কেলেঙ্কারির তদন্তভার হাতে নিয়ে সিবিআই (CBI) ইতিমধ্যেই জানতে পেরেছে যে, এই জালের বিস্তার বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে এবং এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন প্রাক্তন অধ্যাপককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যে খোদ মন্ত্রকের ভবনে আগুন লাগা এবং সিবিআই তদন্তের মুখে জরুরি নথিপত্র পুড়ে খাক হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা দেশের আমজনতা ও ওয়াকিবহাল মহলের উদ্বেগ ও সন্দেহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।