অঙ্গনওয়াড়ির পুষ্টিকর খাবারের প্যাকেটে আস্ত মরা সাপ! একরত্তি বিষ মেশানো লাড্ডু দেওয়া হলো অন্তঃসত্ত্বাকে, তারপর যা ঘটল…
পানধুর্না: সরকারি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে দেওয়া পুষ্টিকর খাবারের প্যাকেট খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ অন্তঃসত্ত্বা মহিলার। লাড্ডুর প্যাকেটের ভেতরে থরে থরে সাজানো খাবারের মাঝেই শুয়ে রয়েছে আস্ত একটি মরা সাপের বাচ্চা! অঙ্গনওয়াড়ির পুষ্টিকর খাবারের নামে এমন চরম বিপজ্জনক ও হাড়হিম করা অবহেলার ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের পানধুর্না জেলায়। এই মারাত্মক খবরটি চাউর হতেই গোটা জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। তবে ভাগ্যবশত, ওই অন্তঃসত্ত্বা যুবতীর কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি। কারণ, খাবারটি মুখে তোলার আগেই প্যাকেটের ভেতরের ওই ভয়ঙ্কর দৃশ্য তাঁর চোখে পড়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাইরে জড়ো হয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন।[TECHTARANGA-POST:9811]প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পানধুর্না জেলার কারঘাট কামথি গ্রামের বাসিন্দা এক গর্ভবতী যুবতীকে নিয়মমাফিক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে পুষ্টিকর লাড্ডুর একটি সিলবন্ধ প্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। ওই যুবতী প্যাকেটটি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি নিয়ে আসেন। এরপর বিকালের দিকে খাওয়ার জন্য যেই না তিনি প্যাকেটের সিলটি খুলেছেন, অমনি তাঁর হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার জোগাড়। লাড্ডুর ঠিক পাশেই কুঁকড়ে মরে পড়ে ছিল একটি বিষাক্ত সাপের ছানা। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও উচ্চ প্রশাসনিক আধিকারিকদের। খবর পাওয়া মাত্রই তড়িঘড়ি স্বাস্থ্য ও শিশু কল্যাণ দফতরের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।[TECHTARANGA-POST:9804]গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুদের সুরক্ষার জন্য দেওয়া সরকারি খাবারের এমন ভয়াবহ ও নিম্নমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে একটি সিলবন্ধ পুষ্টিকর খাবারের প্যাকেটের ভেতরে জ্যান্ত বা মরা সাপ ঢুকে যেতে পারে, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরেও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে জেলা প্রশাসনের তরফে তড়িঘড়ি পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ ও খাদ্য দফতরের আধিকারিকেরা ওই সাপের বাচ্চাসহ পুরো খাবারের প্যাকেটটি বাজেয়াপ্ত করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছেন। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, ল্যাবের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে এই ঘটনার পেছনে যার গাফিলতি সামনে আসবে, তার বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে।