অভয়ার পরিবারের দাবির ভিত্তিতে পুনর্তদন্ত, নজরে দেহদাহ-পর্বের একাধিক প্রশ্ন
কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের সক্রিয় হয়েছে সিবিআই। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পুনর্তদন্ত শুরু হওয়ার পর এবার হাসপাতালের পাশাপাশি পানিহাটির শ্মশানঘাটেও পৌঁছলেন তদন্তকারীরা। ঘটনার দিন এবং তার পরবর্তী সময়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখতেই এই পরিদর্শন বলে সূত্রের খবর।[TECHTARANGA-POST:10029]কয়েকদিন আগেই সিবিআইয়ের একটি দল আরজি কর হাসপাতালে গিয়ে ঘটনাস্থল-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পরিদর্শন করে। পাশাপাশি হাসপাতালের বর্তমান কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক এবং নির্যাতিতার কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গেও কথা বলেন তদন্তকারীরা। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় এবার নজরে এসেছে পানিহাটির শ্মশানঘাট, যেখানে নির্যাতিতার দেহ দাহ করা হয়েছিল।২১ জুন মোদীর আগমনের আগে ‘স্বচ্ছ বাংলা’ গড়ার ডাক শুভেন্দুর পরিবারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, তরুণীর মৃত্যুর পর দেহ দ্রুত দাহ করার জন্য তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। বিশেষ করে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি এবং ‘পানিহাটির কাকু’ নামে পরিচিত সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রকাশ্যে তুলেছিল পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতের দ্বারস্থও হয়েছিল তারা। যদিও সিবিআই ইতিমধ্যেই আদালতে জানিয়েছে, উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তাদের হাতে সরাসরি কোনও প্রমাণ নেই। তবুও হাইকোর্টের নির্দেশে পুনর্তদন্তের সময় পরিবারের সমস্ত অভিযোগ ও দাবি নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10015]উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয়েছিল ওই চিকিৎসক-পড়ুয়ার দেহ। ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ এবং আন্দোলনের ঝড় ওঠে। প্রথমে কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিবিআইয়ের হাতে। এই মামলায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে আজীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।[TECHTARANGA-POST:9998] তবে তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর না মেলার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি পুনর্তদন্তের আবেদন জানায় নির্যাতিতার পরিবার। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই কলকাতা হাইকোর্ট বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ মেনেই এখন নতুন করে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে সিবিআই। আর সেই কারণেই হাসপাতালের পর এবার তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে পানিহাটির শ্মশানঘাট।