চাকরির নামে কাটমানি, শ্রমিকদের মজুরিতেও ভাগ! দুর্গাপুরের তৃণমূল নেতা পান্নালাল ঘোষকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ
একসময় বেসরকারি কারখানার সাধারণ কর্মী। পাশাপাশি ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী এবং পরে পঞ্চায়েত সদস্য। অভিযোগ, সেই সময় থেকেই বদলে যায় তাঁর ভাগ্য। পঞ্চায়েত সদস্য হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠেন দুর্গাপুরের তৃণমূল নেতা তথা কারখানার মালিক পান্নালাল ঘোষ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগে তাঁর প্রভাব ছিল প্রবল। চাকরি পেতে হলে আগে টাকা দিতে হতো, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শুধু তাই নয়, শ্রমিকদের মজুরির একটি অংশও নিয়মিত তাঁর অ্যাকাউন্টে পৌঁছত বলেও অভিযোগ। বর্তমানে তাঁর বিপুল সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন ঘিরে একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।[TECHTARANGA-POST:10683]স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, দুর্গাপুরের কাঁকসার গোপালপুর ও বাঁশকোপা শিল্পাঞ্চলের প্রায় ১০০টি ছোট-বড় কারখানায় অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে পান্নালাল ঘোষের প্রভাব ছিল ব্যাপক। কে চাকরি পাবেন, কে পাবেন না সেই সিদ্ধান্তেও তাঁর মতামত কার্যত শেষ কথা ছিল বলে দাবি। অভিযোগ, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে ৩০ হাজার, কারও কাছ থেকে ৫০ হাজার, আবার কারও ক্ষেত্রে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। বারুইপুরের প্রতিবাদে রাস্তায় নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়টাকা না দিলে কাজ মিলত না বলেও অভিযোগ। এমনকী, কর্মরত শ্রমিকদের মজুরির একটি অংশও নিয়মিত তাঁর কাছে পৌঁছত বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ আরও, বাঁশকোপা মোড় ও রেললাইনের ধারের একটি দলীয় কার্যালয় থেকেই এই সমস্ত আর্থিক লেনদেন ও হিসাবনিকাশ চলত। সেই কার্যালয়টি সাধারণ মানুষের জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।[TECHTARANGA-POST:10656]শুধু শ্রমিক নিয়োগ নয়, সরকারি প্রকল্পে কাটমানি, কর্মরত শ্রমিকের মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণের টাকা থেকেও অংশ নেওয়া এবং একের পর এক জমি, বিলাসবহুল বাড়ি ও চারচাকা গাড়ির মালিক হওয়ার অভিযোগও উঠেছে পান্নালাল ঘোষের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন সাধারণ কারখানা কর্মী ও বুথ সভাপতির আয়ের উৎস কী ছিল? অভিযোগ, গত ১৫ বছরে তৃণমূলের শাসনকালে শিল্পাঞ্চলে কার্যত অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি বাঁশকোপা টোল প্লাজা ঘিরে বিতর্ক এবং বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি কর্মীদের হুমকি ও মারধরের অভিযোগেও তাঁর নাম উঠে এসেছে। বিজেপির ৪ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসের দাবি, শুধু তোলাবাজিই নয়, শ্রমিকদের উপর অত্যাচারও চলত। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে পান্নালাল ঘোষের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।