ডিম থেরাপির পর এবার ‘কান ধরে ওঠবস’! প্রকাশ্য রাস্তায় লাঠিহাতে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে চরম শাস্তি জনতার
পটাশপুর: দিনকয়েক আগের সেই বহুল চর্চিত ‘ডিম থেরাপি’র রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের শিক্ষা দিতে নতুন দাওয়াই আবিষ্কার করল আমজনতা। এবার প্রকাশ্য রাজপথে লাঠি উঁচিয়ে তৃণমূলের এক দাপুটে পঞ্চায়েত প্রধানকে কান ধরে ওঠবস করালেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর-১ ব্লকের নৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অরূপ মাইতির এই চরম লাঞ্ছনার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এলাকায় দেদার দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে যেভাবে এক জনপ্রতিনিধিকে রাস্তার মাঝে কান ধরে শাস্তি পেতে হলো, তা নিয়ে গোটা রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে তোলপাড় শুরু হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9827]স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার নৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা দিয়ে যখন বাইক নিয়ে যাচ্ছিলেন প্রধান অরূপ মাইতি, ঠিক তখনই আচমকা তাঁর পথ আটকে দাঁড়ায় এলাকারই বেশ কিছু ক্ষুব্ধ যুবক। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, চারপাশ থেকে বেশ কয়েকজন যুবক লাঠি হাতে প্রধানকে ঘিরে ধরেছেন এবং তাঁকে অন্যায়ের শাস্তি হিসেবে কান ধরে ওঠবস করার নিদান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং লাঠির ভয়ে কোনও রকম উচ্চবাচ্য না করে রাস্তার মাঝেই বাধ্য হয়ে কান ধরে ওঠবস করতে শুরু করেন ওই তৃণমূল নেতা। যুবকদের নির্দেশ মতো প্রধানের এই কান ধরে শাস্তির দৃশ্য মোবাইলের ক্যামেরায় বন্দি করেন উপস্থিত কিছু মানুষ, যা এখন নেটপাড়ার সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।[TECHTARANGA-POST:9826]এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পটাশপুরে রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গিয়েছে। শাসকদলের এই পঞ্চায়েত প্রধানের প্রকাশ্য রাস্তায় লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে ‘জনরোষের চরম বহিঃপ্রকাশ’ বলে দাবি করেছেন বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি কৃষ্ণ গোপাল দাস। তিনি কড়া ভাষায় তোপ দেগে বলেন, বিগত জমানায় ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে অরূপ মাইতি এলাকায় যে ব্যাপক দুর্নীতি, তোলাবাজি ও অনিয়ম চালিয়েছেন, এটি তারই ফল। ক্ষুব্ধ জনতা আর সহ্য করতে না পেরেই নিজেদের হাতে আইন তুলে নিয়েছেন। এর পাশাপাশি বাকি নেতাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “সমস্ত তৃণমূল নেতাদের স্পষ্ট বলব, বিগত দিনে কোনও দুর্নীতি বা অনিয়ম করে থাকলে সময় থাকতে জনতার দরবারে তা স্বীকার করুন, নইলে আগামী দিনে এর চেয়েও ভয়ঙ্কর ক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে।”[TECHTARANGA-POST:9825]ভিডিওটি চর্তুদিকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লেও এবং এলাকায় তুমুল উত্তেজনা থাকলেও এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত পুলিশি অভিযোগ দায়ের হয়নি। অদ্ভুতভাবে, গোটা এই নজিরবিহীন অপমান ও হেনস্থার ঘটনা প্রসঙ্গে নৈপুর পঞ্চায়েতের প্রধান অরূপ মাইতির কোনও বয়ান বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারাও এই ভাইরাল ভিডিও এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কায় আপাতত মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে এই ভিডিওটি যে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মনে দুর্নীতিবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে এক নতুন প্রতিবাদের সাহস জুগিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।