ঢাকা: রক্তভেজা সেই বুক, উদ্যত বন্দুক আর অকুতোভয় এক ছাত্র - ২০২৪-এর ১৬ জুলাই রংপুরের সেই দৃশ্য কাঁপিয়ে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে! বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের সেই ‘পোস্টার বয়’ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে অবশেষে এল ঐতিহাসিক বিচার। বৃহস্পতিবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণা করেছে - তাতে দুই প্রাক্তন পুলিশকর্মীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:7920]আদালত এই মামলায় মোট ৩০ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। রায় অনুযায়ী, প্রাক্তন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং প্রাক্তন কনস্টেবল সুজনচন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্য তিনজন অভিযুক্তকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এবং বাকি ২৫ জনকে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।[TECHTARANGA-POST:7919]২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। কোটা সংস্কার আন্দোলনে তখন উত্তাল বাংলাদেশ। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদ ছিলেন সেই আন্দোলনের প্রথম সারির মুখ। ভাইরাল হওয়া সেই সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছিল, হাতে একটি সাধারণ বাঁশের লাঠি আর পরনে নীল টি-শার্ট। পুলিশের উদ্যত রাইফেলের সামনে দু’হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সাঈদ! একের পর এক রাবার বুলেট তাঁর বুক বিদ্ধ করছিল, তবুও সরেননি তিনি! শেষ পর্যন্ত লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।[TECHTARANGA-POST:7918]রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আবু সাঈদের সেই সাহসিকতা ছিল শেখ হাসিনা সরকারের পতনের অন্যতম অনুঘটক। ওই একটি ভিডিয়ো ক্লিপ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যা সাধারণ মানুষকে রাজপথে নামতে বাধ্য করেছিল। ট্রাইব্যুনালের এই রায় আবু সাঈদের আত্মত্যাগের প্রতি আইনি স্বীকৃতি এবং ন্যায়বিচার হিসাবেই দেখছেন বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকরা।[TECHTARANGA-POST:7917]আদালতের রায়ের পর সাঈদের পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গিয়েছে। যদিও সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কিনা, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার