মাত্র চার দিনে ৩ উইকেট পতন! এবার সাংসদ পদ ছাড়লেন অভিষেকের ‘ডানহাত’, তবে কি দল ছাড়ছেন প্রকাশচিক?
নয়াদিল্লি: সংসদের উচ্চকক্ষে যেন এক চরম রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে ঘাসফুল শিবিরে! রাজ্যসভায় একের পর এক হেভিওয়েট নেতার পদত্যাগে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা অভিষেকের কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে কটাক্ষ করলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষএবার মাত্র চার দিনের ব্যবধানে তৃতীয় ধাক্কাটি খেল দল। বৃহস্পতিবার আচমকাই রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে দিলেন তৃণমূলের অন্যতম প্রধান তফসিলি উপজাতি মুখ প্রকাশচিক বরাইক। এর আগে গত সোমবার প্রবীণ রাজনীতিক সুখেন্দুশেখর রায় এবং বুধবার সুস্মিতা দেব সাংসদ পদ ছাড়ার পাশাপাশি দলও ত্যাগ করেছেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত প্রকাশচিকের এই আকস্মিক পদত্যাগ রাজ্য রাজনীতিতে এক বিরাট তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তবে বাকি দুই নেতার মতো তিনি এখনই তৃণমূল ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না করলেও, তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধোঁয়াশা।[TECHTARANGA-POST:9862]প্রকাশচিক বরাইককে ২০২৩ সালে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্র থেকে তাঁকে দলের টিকিট দেওয়া হলেও তিনি পরাস্ত হন। দলীয় সূত্রের খবর, এবারের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁকে প্রার্থী করার বিষয়ে দলের অন্দরে জোরালো আলোচনা চলছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। এদিন দিল্লিতে সাংসদ পদে ইস্তফা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রকাশচিক জানান, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে সাধারণ মানুষ যে রায় দিয়েছেন, সেই জনরায়কে সম্মান জানাতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, দলবদলের জল্পনা তিনি এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেননি। আগামী দিনে অন্য কোনও শিবিরে যোগ দেবেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে রহস্যের হাসি হেসে তিনি কেবল এটুকুই বলেন— "সেটা তো সময়ই বলবে।"[TECHTARANGA-POST:9851]আসলে বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে এক অভূতপূর্ব ডামাডোল ও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। দলের পরিষদীয় লাইনে ইতিমধ্যেই বড়সড় ভাঙন ধরেছে। লোকসভার সংসদীয় দলের সিংহভাগ সদস্যই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ থেকে কার্যত ‘বিদ্রোহী’ হয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। আর এবার সেই একই ছায়া দেখা যাচ্ছে রাজ্যসভাতেও। গত সপ্তাহ পর্যন্ত সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলের মোট ১৩ জন সাংসদ শক্তিশালী অবস্থানে ছিলেন। কিন্তু সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই ইস্তফার হিড়িকে মাত্র চার দিনের মধ্যে সেই সংখ্যাটা কমে একধাক্কায় ১০-এ এসে ঠেকেছে। অন্যদিকে, লোকসভাতেও দলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে এখন ‘মমতার অনুগত’ হিসেবে টিকে রয়েছেন মাত্র আট জন। এই চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আগামী দিনে তৃণমূলের রাজ্যসভার বাকি সাংসদরা কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই এখন দেখার।