রামমন্দির প্রণামী কাণ্ডে সিট রিপোর্টে বিস্ফোরণ, ৩৫০০ কোটির দান নিয়ে প্রশ্ন
অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামী ও দানের সামগ্রী নিয়ে তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি সূত্রের। উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে জমা দেওয়া বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) প্রাথমিক রিপোর্টে বিপুল পরিমাণ দান ও গয়নার হিসেব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:10254]বাবরি মসজিদ-রামমন্দির মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর ২০২০ সালে তৈরি হয়েছিল ‘রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’। এরপর থেকেই রামমন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ভক্তদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দান আসতে শুরু করে। সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত রামমন্দিরে নগদ প্রণামী হিসেবে প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকার বেশি জমা পড়েছে। পাশাপাশি এসেছে বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপোর গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী। সিটের প্রাথমিক রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে, এই বিপুল দানসামগ্রীর একটি বড় অংশের হিসেব মিলছে না। শুধু নগদ অর্থ নয়, মন্দিরে দান হিসেবে পাওয়া কিছু মূল্যবান সামগ্রীও উধাও হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রুপোর তৈরি ‘ভূষূণ্ডির কাক’-এর মতো সামগ্রীর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।[TECHTARANGA-POST:10265]তদন্তকারীদের মতে, এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও দানের সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে নজরদারির বাইরে থাকা শুধুমাত্র ব্যক্তিগতভাবে সম্ভব নয়। এই ঘটনায় ট্রাস্টের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিট। সূত্রের খবর, বর্তমান ট্রাস্ট কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে নতুন পরিচালন পর্ষদ গঠনের সুপারিশও করেছে তদন্তকারী দল।[TECHTARANGA-POST:10243] প্রসঙ্গত, রামমন্দির নির্মাণের সময়ই দানসামগ্রী সংরক্ষণ ও হিসেব রাখার পরিকাঠামো নিয়ে সতর্ক করেছিল একটি বেসরকারি অডিট সংস্থা। নগদ প্রণামী সংগ্রহ ও হিসেবের মধ্যে সম্ভাব্য গরমিলের আশঙ্কার কথাও অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। সিটের প্রশ্ন, সেই সতর্কবার্তার পরেও কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেছেন, এফআইআর ছাড়া সিট তদন্ত কার্যকর নয় এবং পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।