নীতীশকে সরানোর ‘চক্রান্ত’? বিহারজুড়ে জেডিইউ সমর্থকদের তুমুল বিক্ষোভ, ‘দূরত্ব’ বজায় রাখছে বিজেপি!
পটনা: ২০ বছরের চেনা সিংহাসন ছাড়ছেন নীতীশ কুমার! এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই কার্যত হুলুস্থূল বেধে গেল বিহারের রাজনীতিতে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পটনা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন জেডিইউ কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের সাফ দাবি, নীতীশ কুমারকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো চলবে না। একটা সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, নীতীশের বাসভবনের সামনে বিধায়কদের গাড়ি পর্যন্ত আটকে দেন উত্তেজিত সমর্থকরা।[TECHTARANGA-POST:7021]বৃহস্পতিবার সকালে সমাজমাধ্যমে নীতীশ কুমার যখন নিজের রাজ্যসভা যাওয়ার ইচ্ছার কথা ঘোষণা করছেন, তখনই তাঁর বাসভবনের বাইরে স্লোগান দিচ্ছিলেন শত শত দলীয় কর্মী। জেডিইউ নেতা রাজীবরঞ্জন পটেলের নেতৃত্বে চলা এই বিক্ষোভে অভিযোগ তোলা হয়, নীতীশকে বিহারের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার বড় কোনও ‘চক্রান্ত’ চলছে।[TECHTARANGA-POST:7017]বিক্ষোভকারীদের দাবি, নীতীশ কুমারকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে বহাল রাখতে হবে। যদি রাজ্যসভায় কাউকে পাঠাতেই হয়, তবে নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমারকে পাঠানো হোক। জনগণ নীতীশ কুমারের নামে ভোট দিয়েছে। তাই মাঝপথে তাঁর সরে যাওয়া মেনে নেওয়া হবে না। জেডিইউ নেতা সঞ্জয় সিংহ সংবাদমাধ্যমকে জানান, "যদিও নীতীশজি নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু, বিহারের মানুষ চায় তিনিই মুখ্যমন্ত্রী থাকুন।"[TECHTARANGA-POST:7014]এদিকে, বিহারে বিজেপির কারও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ যখন প্রশস্ত হচ্ছে, তখন এই বিক্ষোভ থেকে সুকৌশলে দূরত্ব বজায় রাখছে পদ্ম শিবির। নীতীশের সিদ্ধান্তকে জেডিইউর ‘দলগত বিষয়’ বলে দায় এড়িয়েছেন বিজেপি নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা রামকৃপাল যাদব বলেন, “এটা ওদের দলের বিষয়। নীতীশ কুমারের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। এনডিএ একজোট আছে এবং আমরা সকলে মিলেই সরকার চালাব।”[TECHTARANGA-POST:7015]রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি এখন ‘ধীরে চলো’ নীতি নিচ্ছে। নীতীশের ইস্তফা এবং রাজ্যসভায় মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য নিজেদের তুরুপের তাসটি (সম্ভবত সম্রাট চৌধুরি) বের করবে। আপাতত জেডিইউর অন্দরের ক্ষোভ থিতিয়ে আসার অপেক্ষায় রয়েছে গেরুয়া শিবির।নীতীশ নিজে জানিয়েছেন, নতুন সরকারের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন থাকবে। কিন্তু, তাঁর নিজের দলের কর্মীরাই যেভাবে ‘চক্রান্ত’-এর তত্ত্ব খাড়া করছেন, তাতে স্পষ্ট যে নীতীশের এই প্রস্থান খুব একটা মসৃণ হচ্ছে না। সূত্রের খবর, আজই রাজ্যসভার জন্য মনোনয়ন জমা দিতে পারেন নীতীশ। তার আগেই সমর্থকদের এই বিদ্রোহ পটনার রাজনীতির পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।