নিজস্ব প্রতিনিধি, নদীয়া - অন্ধ বিশ্বাস, আর সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই নিখুঁত ছক—শেষ পর্যন্ত গোটা পরিবারকে অচেতন করে সর্বস্ব লুট করে উধাও ‘সন্ন্যাসিনী’! নদিয়ার চাপড়া থানার চাড়াতলা গ্রামের এই ঘটনা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। [TECHTARANGA-POST:7954]স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কার্তিক প্রামাণিকের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি লেগেই থাকত। সমস্যার সমাধানের আশায় কয়েকদিন আগে এক সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। ওই মহিলা দাবি করেন, বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব রয়েছে, যা দূর করতে হলে তাঁকে কয়েকদিন ওই বাড়িতে থাকতে হবে। এই আশ্বাসে ভরসা করে কোনওরকম যাচাই না করেই তাঁকে বাড়িতে থাকার অনুমতি দেয় পরিবার। গত তিনদিন ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন। প্রথমদিকে পূজোপাঠ, মন্ত্রোচ্চারণ—সব মিলিয়ে বাড়ির সকলের বিশ্বাস অর্জন করেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:7951]কিন্তু রবিবার সকালে সামনে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। দীর্ঘক্ষণ কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা বাড়িতে ঢুকে দেখেন, দরজা খোলা, ঘর এলোমেলো আর মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন পরিবারের পাঁচ সদস্য! তৎক্ষণাৎ তাঁদের উদ্ধার করে কৃষ্ণনগরের শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা মাদক মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। [TECHTARANGA-POST:7936]অন্যদিকে, বাড়িতে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি সেই সন্ন্যাসিনীকে। সন্দেহ, পরিকল্পনামাফিক পরিবারের সবাইকে অজ্ঞান করে নগদ টাকা, গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে চম্পট দিয়েছেন তিনি। চাপড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত পরিবারের সদস্যদের সম্পূর্ণ জ্ঞান না ফেরায় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ সম্ভব হয়নি। কী পরিমাণ সম্পত্তি খোয়া গিয়েছে, তা স্পষ্ট হবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়ার পরই। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি উঠে আসছে বড় প্রশ্ন—অন্ধ বিশ্বাসের ফাঁদে পড়ে কতটা ঝুঁকি নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ?
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার