আর জি কর কাণ্ডে নয়া মোড়! এবার সোজা হাইকোর্টে সঞ্জীব ‘কাকু’, ফাঁস হল পানিহাটি শ্মশানের সেই রহস্য?
কলকাতা: আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার নতুন নাটকীয় মোড়। নির্যাতিতার মায়ের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় ওরফে ‘কাকু’। মঙ্গলবার হাইকোর্টে গিয়ে তাঁর স্পষ্ট দাবি, তাঁকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার আবেদন জানানো হলে, আদালত সঞ্জীববাবুকে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9261]আর জি করের ঘটনার পর নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি পানিহাটি শ্মশানঘাটে নিয়ে গিয়ে দাহ করা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ হল — শ্মশানের সেই ডেথ সার্টিফিকেটের ফর্মে বা নথিতে এই সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের সই ছিল! নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ (যিনি বর্তমানে পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক) শিয়ালদহ আদালতে অভিযোগ করেছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে মেয়ের দেহ আর জি কর থেকে বের করে তড়িঘড়ি দাহ করা হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে প্রমাণ লোপাট করা হয়েছে। এই তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগেই তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দের পাশাপাশি সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়েরও গ্রেফতারি চেয়েছেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:9260]গ্রেফতারির খাঁড়া ঝুলতেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন নির্যাতিতার পাশের পাড়ার বাসিন্দা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। আদালতে তাঁর আইনজীবীর মূল অভিযোগগুলি হল, তাঁর মক্কেলকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হচ্ছে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সঞ্জীববাবুর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইনি সুরক্ষা পেতে আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:9257]প্রসঙ্গত, এলাকায় ‘কাকু’ নামে পরিচিত সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন বেশ বৈচিত্র্যময়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একসময় তিনি সিপিআইএমের সক্রিয় কাউন্সিলর ছিলেন। পরবর্তীতে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর বেশ কয়েক বছর তিনি কোনও রাজনৈতিক দলে ছিলেন না, অর্থাৎ ‘দলহীন’ ছিলেন। ২০১৯ সালে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে তিনি তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলে (TMC) যোগ দেন এবং প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে জায়গা করে নেন। [TECHTARANGA-POST:9256]আর জি করের প্রমাণ লোপাটের মামলার জল এবার কতদূর গড়ায় এবং হাইকোর্ট সঞ্জীব ‘কাকু’-কে কোনও আইনি স্বস্তি দেয় কিনা, এখন সেটাই দেখার!