শান্তিনিকেতন: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজের হাতে গড়া বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের গরিমা কি ক্রমশ ম্লান হচ্ছে? দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সাম্প্রতিকতম যে র্যাঙ্কিং তালিকা সামনে এসেছে, তা কিন্তু এই চরম উদ্বেগের দিকেই আঙুল তুলছে। ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক’ (IIRF) প্রকাশিত নতুন তালিকায় আবারও বেশ কয়েক ধাপ পিছিয়ে গেল বিশ্বভারতী। একাডেমিক উৎকর্ষ, উন্নত মানের গবেষণা, পড়ুয়াদের প্লেসমেন্ট পারফরম্যান্স, কর্পোরেট সংযোগ এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফরম্যান্স আগের বছরের তুলনায় অনেকটাই আশঙ্কাজনকভাবে মার খেয়েছে। আর এই ধারাবাহিক পতনের জেরে বিশ্বভারতীর সামগ্রিক পঠনপাঠনের মান ও প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে শিক্ষামহলে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9844]আইআইআরএফ-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে এক ভয়ংকর পরিসংখ্যান উঠে আসছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালেও দেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে বিশ্বভারতীর স্থান ছিল অষ্টম। ২০২৪ সালে তা এক ধাক্কায় ১৪ নম্বরে নেমে যায়। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে অবস্থান ছিল ১৭তম, আর চলতি বছরে তা আরও পিছিয়ে একেবারে ২০তম স্থানে এসে ঠেকেছে। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এই বিপুল পতন নিঃসন্দেহে বিশ্বকবির শিক্ষাকেন্দ্রের ঐতিহ্যে মস্ত বড় ধাক্কা। যেখানে এই তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে রয়েছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, সেখানে বিশ্বভারতীর এই বিশ বাঁও জলে তলিয়ে যাওয়া সহজে মেনে নিতে পারছেন না আশ্রমিকরা।বিশ্বভারতীর এই গৌরব হানির ঘটনায় চারদিকে যখন সমালোচনা ঝড় উঠেছে, তখন এই র্যাঙ্কিংকে কার্যত কোনো পাত্তাই দিতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এটি একটি বেসরকারি সংস্থার প্রকাশিত তালিকা, তাই এই বিষয়ে তাঁদের নতুন করে কিছু বলার নেই। তাঁদের কাছে সরকারি ‘এনআইআরএফ’ (NIRF) র্যাঙ্কিংই একমাত্র মানদণ্ড। তবে কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীন মনোভাবের বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রবীণ আশ্রমিক সুব্রত সেন মজুমদার এবং অপর্ণা দাস মহাপাত্র গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, গত কয়েক বছরে আইআইআরএফ এবং সরকারি এনএএসি (NAAC) মূল্যায়ন— সব জায়গাতেই বিশ্বভারতীর অবস্থান যেভাবে নীচের দিকে নেমেছে, তা অত্যন্ত দুশ্চিন্তার। তবে সমস্ত প্রশাসনিক ও অভ্যন্তরীণ সমস্যা কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় যেন খুব দ্রুত তার হারিয়ে যাওয়া পূর্ব গৌরব ফিরে পায়, এখন সেটাই সাধারণ মানুষের একমাত্র প্রার্থনা।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার