নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একান্ত আমন্ত্রণে ব্রেকফাস্ট বৈঠকে যোগ দিয়ে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন রাজ্য থেকে সদ্য এনডিএ-তে সামিল হওয়া এনসিপিআই সাংসদরা। সায়নী ঘোষ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, বাপি হালদার থেকে শুরু করে মোট ৪৭ জন নবনিযুক্ত এনডিএ সাংসদের উপস্থিতিতে এই বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সচরাচর প্রধানমন্ত্রীর এত কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ না মিললেও, শুক্রবারে সেই সুযোগ লুফে নিয়ে নিজেদের নিজ নিজ এলাকার একগুচ্ছ দাবিদাওয়া ও সমস্যা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি তুলে ধরেন সাংসদরা। তবে বৈঠক শুরুর আগেই টেবিলের ওপর রাখা খাম দেখে রীতিমতো চমকে যান প্রত্যেকে।বৈঠকস্থলে প্রতি সাংসদের জন্য বরাদ্দ নির্দিষ্ট চেয়ারের ওপর রাখা ছিল একটি করে মুখবন্ধ রহস্যময় খাম। পরে জানা যায়, সেই খামটি মূলত প্রতি সাংসদের গত তিন মাসের সোশাল মিডিয়া পারফরম্যান্সের এক্সক্লুসিভ ‘মার্কশিট’! ফেসবুক, টুইটার কিংবা ইনস্টাগ্রামে কার কতটা সক্রিয়তা এবং কারা কেমন পোস্ট করছেন—তার বিস্তারিত হিসাবই তুলে দেওয়া হয়েছিল তাঁদের হাতে। তবে তা নিয়ে কঠোর অবস্থান না নিয়ে পুরো বৈঠকজুড়েই অত্যন্ত খোশমেজাজে ধরা দেন মোদী। সায়নী ঘোষ বা বাপি হালদারদের সঙ্গে তাঁর হাসিমুখের আলাপের দৃশ্য ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে।বৈঠকে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে মুর্শিদাবাদের ৩ জন সংখ্যালঘু সাংসদের উপস্থিতি। তাঁরা প্রাতঃরাশের টেবিলেই ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে একটি যৌথ চিঠি মোদীর হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি সাংসদ আবু তাহের খান এলাকার রেলপথের আধুনিকীকরণ, বাপি হালদার ‘গঙ্গাসাগর’ মেলাকে জাতীয় মেলার মর্যাদা দেওয়া এবং বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ রায় এমপিল্যাডের তহবিলে থাকা ১৮ শতাংশ জিএসটি ছাড়ের আর্জি জানান। প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য ধরে প্রত্যেকের কথা শোনেন এবং ইতিবাচক আশ্বাস দেন। মোদী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, যারা ২৪ বছর ধরে এনডিএ-তে রয়েছেন আর যারা একদিন আগে যোগ দিয়েছেন—সবার গুরুত্বই তাঁর কাছে সমান, তাই সবাইকে আপাতত নিজের এলাকার সার্বিক উন্নয়নে মন দিতে হবে।ব্রেকফাস্ট টেবিলের এই খোশমেজাজী আলাপচারিতার পর দিল্লির রাজনীতিতে আগামী দিনে নতুন কোন চমক আসে, এখন সেদিকেই চোখ সবার![TECHTARANGA-POST:11503]হিডেন স্টোরিজ নিউজ