ভোটের প্রচারে নীলবাতি গাড়ি! আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বিদ্ধ শত্রুঘ্ন সিনহা
জামুরিয়া: লোকসভা হোক বা বিধানসভা—নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই জারি হয়ে যায় ‘আদর্শ আচরণবিধি’ (Model Code of Conduct)। কিন্তু সেই বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠল আসানসোলের তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার বিরুদ্ধে। দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে নীলবাতি লাগানো গাড়ি চড়ে প্রচারসভায় হাজির হয়ে বড়সড় বিতর্কে জড়ালেন তিনি।[TECHTARANGA-POST:7512]রবিবার পশ্চিম বর্ধমানের জামুরিয়ায় তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিংহর সমর্থনে একটি কর্মীসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা। অভিযোগ, তিনি যে গাড়িটিতে চেপে সভায় আসেন, তাতে নীলবাতি লাগানো ছিল। শুধু তাই নয়, গাড়ির সামনে ‘মেম্বার অফ পার্লামেন্ট, আসানসোল’ লেখা বোর্ড এবং অশোক স্তম্ভের ছবিও ছিল।[TECHTARANGA-POST:7510]নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর কোনো রাজনৈতিক প্রচারে সরকারি পদমর্যাদা বা চিহ্ণ সংবলিত যানবাহন ব্যবহার করা যায় না। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করেই আসরে নেমেছে বিজেপি।[TECHTARANGA-POST:7508]জামুরিয়ার বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায় এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন বিধি চালু হওয়ার পর নীলবাতি বা অশোকস্তম্ভ লাগানো গাড়ি ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তৃণমূল সরকার যে নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করে না, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। [TECHTARANGA-POST:7504]বিজেপি এই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিতর্ক দানা বাঁধতেই অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন শত্রুঘ্ন সিনহা। তিনি জানান “আমি কোনো বাতি নতুন করে লাগাইনি, ওটা আগে থেকেই ছিল। আমি বাতি জ্বালিয়েও আসিনি। আমি কোনো মরসুমি রাজনীতিক নই, আমি একজন ভদ্রলোক এবং আইন মেনে চলি। কারও মনে আঘাত লাগে এমন কাজ আমি করি না।”[TECHTARANGA-POST:7503]যদিও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, বিতর্ক শুরু হওয়ার পর সাংসদ তাঁর আপ্তসহায়ককে দিয়ে গাড়ি থেকে নীলবাতিটি খুলিয়ে নেন। তবে ‘মেম্বার অফ পার্লামেন্ট’ লেখা বোর্ডটি তখনও গাড়িতে লাগানো ছিল।এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই ঘটনায় সাংসদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে কি না।