বিমান ভাড়ার আর্থিক লেনদেন ঘিরে তদন্ত, মমতার ঘনিষ্ঠ শুভাশিসকে তলব ইডির
তৃণমূলের দলীয় তহবিল মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ বার কালীঘাট তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ তথা প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তীকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। চলতি সপ্তাহেই তাঁকে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হতে বলা হয়েছে। [TECHTARANGA-POST:11145]ইডি সূত্রে খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল শুভাশিস চক্রবর্তীর। ওই অ্যাকাউন্টগুলির সাইনিং অথরিটি হওয়ায় আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। বর্তমানে দলীয় প্রতীক, তহবিল ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা চলছে। সেই মামলার শুনানিতেই সম্প্রতি প্রায় ১৬৪ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে এসেছে। যদিও শুভাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, হাজিরা দেওয়ার আগে তিনি দলের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করবেন। ট্যাক্স তো দিচ্ছেন কিন্তু জানেন ভারতে ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছিল এই আইনতৃণমূলের দলীয় তহবিল সংক্রান্ত মামলায় এর আগেও একাধিক পদক্ষেপ করেছে ইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে বেসরকারি বিমান সংস্থা কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন-এর দুই ডিরেক্টর পবন জাজু এবং রমেশ জাজুকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তাঁদের বয়ানও নথিভুক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশনকে চার্টার বিমান ও হেলিকপ্টার সংক্রান্ত খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সংস্থার কাছ থেকেই আবার বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়া নেওয়া হয়। এই আর্থিক লেনদেনের উদ্দেশ্য এবং তহবিলের ব্যবহার নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দলীয় তহবিলের অপব্যবহার বা তছরুপ হয়ে থাকতে পারে।[TECHTARANGA-POST:11145]এই মামলার জেরেই তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করার নির্দেশ দিয়েছিল ইডি। যদিও তৃণমূলের দাবি, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইনসঙ্গত নয়। পরে কলকাতা হাই কোর্ট দৈনন্দিন প্রশাসনিক খরচ ও মামলার খরচ চালানোর জন্য নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ওই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। আদালত জানায়, অ্যাকাউন্টগুলির পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে আদালত নিযুক্ত এক বিশেষ আধিকারিকের হাতে। সম্প্রতি ওই অ্যাকাউন্টগুলির উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই পর্যায়ে মামলায় কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না।