নথিপত্র জাল থেকে চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকা লুট! জিরো টলারেন্স নীতিতে এবার সিঙ্গুরে বড়সড় কোপ শুভেন্দু সরকারের!
সিঙ্গুর: বাংলায় সরকার বদল হতেই একের পর এক দুর্নীতিগ্রস্ত রাঘববোয়ালদের জালে তুলতে কোমর বেঁধে নেমেছে নতুন প্রশাসন। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা মানিক দাস।আর ডি বর্মনের বায়োপিকে ফারহান আখতার! রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বেচারাম মান্নার অত্যন্ত ‘ঘনিষ্ঠ’ এবং বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত এই নেতার বিরুদ্ধে প্রতারণা, সরকারি নথিপত্র জালিয়াতি এবং চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সিঙ্গুর থানার পুলিশের এই নাটকীয় ও হাইপ্রোফাইল গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে গোটা হুগলি জেলা জুড়ে তীব্র শোরগোল ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দুর্নীতি বা তোলাবাজির ইস্যুতে কাউকে এক ইঞ্চিও রেয়াত করা হবে না। সেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির জেরেই এবার পুরনো পাপের মাশুল দিতে সিঙ্গুরের এই হেভিওয়েট নেতাকে শ্রীঘরে যেতে হলো।[TECHTARANGA-POST:9942]সিঙ্গুর থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত ২০১৪ সালের একটি পুরনো ও চাঞ্চল্যকর প্রতারণার মামলায় মানিক দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি করে জাল নথিপত্র তৈরি করা, সেই ভুয়ো নথিকে আসল হিসেবে ব্যবহার করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়া এবং এর প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। চন্দননগর আদালত অনেক আগেই এই নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও, রাজ্যে পূর্বতন তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকায় এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুলিশ এতদিন তাঁর গায়ে হাত দেওয়ার সাহস পায়নি। কিন্তু ৪ মে রাজ্যে নজিরবিহীন রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গিয়েছে। পুলিশের হাত শক্ত হতেই অবশেষে পুরনো মামলার ফাইল খুলে রবিবারই তাঁকে পাকড়াও করা হয় এবং এদিনই তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9892]উল্লেখ্য, বাম সরকারের পতনে এবং রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার নেপথ্যে যে সিঙ্গুর আন্দোলন ছিল সবচেয়ে বড় অনুঘটক, মানিক দাস ছিলেন সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের সামনের সারির অন্যতম নেতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় সিঙ্গুর এলাকায় কার্যত শেষ কথা বলতেন এই মানিক। হুগলি জেলা পরিষদের তিন-তিনবারের নির্বাচিত সদস্য এবং জেলা পরিষদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কৃষি কর্মাধ্যক্ষ’ পদের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি পদে আসীন ছিলেন। মন্ত্রী বেচারাম মান্নার ডানহাত হিসেবে পরিচিত থাকায় তাঁর দাপটে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত। তবে সরকার বদলাতেই তাঁর সেই ক্ষমতার দম্ভ ধূলিসাৎ হয়ে গেল। এই গ্রেপ্তারিকে ‘বাকি থাকা অ্যাকশনের সূচনা’ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।