ভাড়া না দিয়ে বৃদ্ধ দম্পতিকে মারধর! অবশেষে তৃণমূলের সেই পার্টি অফিস দখলমুক্ত করে বড় চমক বিজেপির
বেলুড়: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই এবার জমি ও বাড়ি জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশনে নামল বিজেপি। এক নিঃস্ব বৃদ্ধ দম্পতির বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে বছরের পর বছর ধরে চালানো তৃণমূলের পার্টি অফিস এবার চিরতরে বন্ধ করে দিল গেরুয়া শিবির। শুধু ঘর জবরদখল মুক্ত করাই নয়, অসহায় ওই দম্পতির মুখে হাসি ফুটিয়ে সম্পূর্ণ আইনি উপায়ে ভাড়ার চুক্তি করে সেখানে নিজেদের দলীয় কার্যালয় স্থাপন করল বিজেপি নেতৃত্ব। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার বেলুড় স্টেশন রোড এলাকায়। দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন থেকে মুক্তি পেয়ে এবং ঘরের চাবি ফেরত পেয়ে স্বভাবতই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন মিত্র দম্পতি।[TECHTARANGA-POST:10356]স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলুড় স্টেশন রোডের বাসিন্দা বৃদ্ধ সুভাষ মিত্র ও তাঁর স্ত্রীর বাড়ির একটি ঘর দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। অভিযোগ, ঘর বাবদ কোনও টাকা বা ভাড়া দেওয়া তো দূরস্থ, উল্টে ভাড়া চাইতে গেলে ওই প্রবীণ দম্পতির ওপর চলত চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ভয়ে এতদিন মুখ বুজে সব সহ্য করছিলেন বৃদ্ধ সুভাষবাবু। এমনকি প্রতিবাদ করতে গেলে বৃদ্ধকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া এবং মারধর করা হতো বলেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বেশ কিছুদিন ধরে ওই কার্যালয়টি বন্ধ থাকলেও তৃণমূলের লোকজন ঘরটি ছাড়ছিল না। অবশেষে এই জবরদখলের অবসান ঘটাতে সরাসরি ময়দানে নামে বিজেপি।[TECHTARANGA-POST:10355]বিজেপির বালি ১ নম্বর মণ্ডলের যুবনেতা দীপক যাদবের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা বেলুড় স্টেশন রোডের ওই বাড়িতে যান এবং ঘরটি তৃণমূলের কবল থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করেন। যুবনেতা দীপক যাদব স্পষ্ট জানান, বালির প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর প্রাণকৃষ্ণ মজুমদার ওরফে নান্টু দীর্ঘদিন ধরে এই ঘরটি জোর করে দখল করে পার্টি অফিস চালাচ্ছিলেন। বিজেপি আজ ঘরটি দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিক তথা বৃদ্ধ দম্পতির হাতে চাবি তুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সততা বজায় রেখে বাড়ির মালিকের সঙ্গে আইনিভাবে ভাড়ার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বিজেপি, যাতে প্রতি মাসে তাঁরা নির্দিষ্ট ভাড়া পান। বিজেপি নেতৃত্বের এই মানবিক ও আইনি পদক্ষেপে খুশি হয়ে মিত্র দম্পতি জানান, তৃণমূলের জুলুম থেকে বাঁচিয়ে বিজেপি তাঁদের যে মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিল, তাতে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত।