ম্যাট থেকে মেডেল: ভারতের ‘দঙ্গল কন্যা’
যখন গোটা দেশ পদকের অপেক্ষায়, তখন ৫৮ কেজি ফ্রিস্টাইল কুস্তির ম্যাটে নামলেন রোহতকের এক অদম্য তরুণী। শেষ মুহূর্তের অবিস্মরণীয় কামব্যাকে ছিনিয়ে নিলেন ব্রোঞ্জ। তিনি ভারতের প্রথম মহিলা কুস্তিগীর, যিনি অলিম্পিক পদক জিতে দেশের তেরঙ্গা উঁচিয়ে ধরেছিলেন।হরিয়ানার রোহতকে যখন ১২ বছর বয়সে কুস্তির আখড়ায় পা রেখেছিলেন, তখন শুনতে হয়েছিল তীব্র সামাজিক কটাক্ষ। লড়াইটা শুধু প্রতিপক্ষকে হারানোর ছিল না; লড়াইটা ছিল সেই চিন্তাধারার বিরুদ্ধে, যারা ভেবেছিল মেয়েরা কুস্তিতে ইতিহাস লিখতে পারে না। ২০১৬ রিও অলিম্পিকের ব্রোঞ্জ বাউটে কিরগিজস্তানের আইসুলু টাইনিবেকোভার কাছে প্রথম পর্বেই ০–৫ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েন সাক্ষী। হার যখন প্রায় নিশ্চিত, তখনই শুরু হয় অবিশ্বাস্য রূপকথা। [TECHTARANGA-POST:12225]দ্বিতীয়ার্ধে নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল কামব্যাকে ব্যবধান নামিয়ে আনেন ৫–৫-এ। আর বাউটের শেষ ৯ সেকেন্ডে এক ক্ষিপ্র টেকডাউনে ছিনিয়ে নেন জয়সূচক পয়েন্ট। প্রতিপক্ষের ব্যর্থ চ্যালেঞ্জের পর স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করে ৮–৫। শেষ কয়েক সেকেন্ডের এই অতিমানবিক লড়াইয়ে ভারতের হয়ে কুস্তিতে প্রথম অলিম্পিক পদক জেতেন কোনও নারী। ম্যাটের বাউন্ডারি ছাড়িয়ে সাক্ষী মালিক আজ এক কোটি ভারতীয় তরুণীর কাছে এক জীবন্ত বিশ্বাস—যদি জেদ হয় খাঁটি , তবে বিজয় নিশ্চিত। ভারতের গর্ব, ইতিহাস সৃষ্টিকারী অলিম্পিক পদকজয়ী সাক্ষী মালিককে জানাই জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।