সোনাঝুরিতে একের পর এক গাছ কেটে সাফ! ‘আত্মহত্যার শামিল’, মন্তব্য পরিবেশপ্রেমী সুভাষ দত্তের
শান্তিনিকেতন: কবিগুরুর শান্তিনিকেতনের অন্যতম আকর্ষণ সোনাঝুরির জঙ্গল কি তবে ধ্বংসের মুখে? একের পর এক গাছ কেটে ফেলায় কার্যত ‘ন্য়াড়া’ হয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী বনাঞ্চল। মঙ্গলবার সোনাঝুরির বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত। বনের যত্রতত্র কাটা গাছের ডালপালা পড়ে থাকতে দেখে তাঁর আক্ষেপ, "এইভাবে প্রকৃতি ধ্বংস করা আত্মহত্যার শামিল।"[TECHTARANGA-POST:9025]শান্তিনিকেতনের এই সোনাঝুরি জঙ্গলে বেআইনিভাবে হাট বসানো এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অনেক আগেই জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা করেছিলেন সুভাষ দত্ত। মঙ্গলবার তিনি সদলবলে এলাকাটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর তিনি জানান, পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। চারদিকে সবুজের বদলে কেবল ধুধু মাঠ আর কাটা গাছের চিহ্ন। বন দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "বন দফতর তো তুলে দেওয়ার মতো অবস্থা! দিনের পর দিন গাছ কাটা হচ্ছে আর তারা কিছুই জানে না — এটা অবিশ্বাস্য!"[TECHTARANGA-POST:9024]কলকাতায় জাতীয় পরিবেশ আদালতের বেঞ্চটি বিচারকের অভাবে দীর্ঘকাল ধরে নিষ্ক্রিয় পড়ে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুভাষবাবু। তাঁর অভিযোগ, পরিবেশ নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলেরই বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। তাই, আদালতের এই অচলাবস্থা নিয়েও কেউ সোচ্চার হয় না। মামলার শুনানি ঝুলে থাকার সুযোগ নিয়ে সোনাঝুরিতে রমরমিয়ে চলছে বেআইনি গাছ কাটা এবং ব্যবসা।[TECHTARANGA-POST:9022]রাজ্যে সরকার বদল হলেও বন দফতরের কার্যকারিতা নিয়ে এখনও সন্দিহান এই প্রবীণ পরিবেশবিদ। তিনি জানিয়েছেন, সোনাঝুরির এই বিধ্বস্ত অবস্থার সমস্ত প্রমাণ ও ছবি তিনি সংগ্রহ করেছেন। খুব শীঘ্রই এই সমস্ত তথ্য নিয়ে তিনি ফের আদালতের দ্বারস্থ হবেন। সোনাঝুরিতে যাতে অবিলম্বে গাছ কাটা বন্ধ হয় এবং সদর্থক পদক্ষেপ করা হয়, সেই দাবিতে তিনি সওয়াল করবেন।