সাতসকালে টিকিয়াপাড়ায় রণক্ষেত্র পরিস্থিতি, বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১০০টি ঝুপড়ি-দোকান!
হাওড়া: সাতসকালেই তীব্র চাঞ্চল্য হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায়। এবার আর শুধু অবৈধ দোকানপাট নয়, একেবারে মাথা গোঁজার ঠাঁই তথা ১০০টি পরিবারের ঝুপড়ি ও বস্তি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল রেল কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকালে টিকিয়াপাড়ার বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফ থেকে এক বিশাল উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেলের আরপিএফ এবং রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি নামানো হয়েছিল বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গোটা এলাকা বুলডোজার দিয়ে সাফ করে দেওয়া হয়, যা নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10198]রেল সূত্রের খবর, টিকিয়াপাড়া থেকে হাওড়া যাওয়ার লাইনের পাশে রেলের বিস্তীর্ণ জমি দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনিভাবে দখল করে কমবেশি ১০০টি পরিবার ঝুপড়ি বানিয়ে বসবাস করছিল। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পরিবারগুলোকে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বহুবার নোটিস পাঠানো হলেও তারা সরেনি। এদিন সকালে উচ্ছেদকারী দল পৌঁছানোর পর প্রথমে মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিজেদের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাসিন্দারা অনড় থাকায় শেষমেশ আসরে নামে বুলডোজার। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঝুপড়িগুলো রেললাইনের ধারের একটি বড় নর্দমার ওপর গড়ে উঠেছিল। ফলে বর্ষাকালে নর্দমা পরিষ্কার করা সম্ভব হতো না এবং লাইনে জল জমে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হতো। সামনেই বর্ষা, তাই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং নর্দমা সংস্কারের স্বার্থেই এই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:10197]এর আগে হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম, হাবরা বা যাদবপুরের মতো স্টেশনগুলোতে হকার ও বেআইনি দোকান উচ্ছেদে রেল সক্রিয় হলেও, আস্ত বস্তি বা ঝুপড়ি উচ্ছেদের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রথম। এই অভিযানের ফলে নিত্যযাত্রীদের একাংশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। তাঁদের মতে, স্টেশন চত্বর হকারমুক্ত এবং খোলামেলা হলে ব্যস্ত সময়ে যাতায়াতের পথ সুগম হবে। তবে উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীদের কান্না ও ক্ষোভ গ্রাস করেছে গোটা টিকিয়াপাড়াকে। মাথার ছাদ হারিয়ে অসহায় পরিবারগুলির অভিযোগ, কোনো বিকল্প পুনর্বাসন ছাড়াই এভাবে হুট করে বাসস্থান ভেঙে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ রুখতে আগামী দিনে আইনি লড়াই বা বড়সড় আন্দোলনের ইঙ্গিতও মিলছে স্থানীয় সূত্রে।