পালাবদল হতেই কাটল ‘ভীতি’, পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার টিটাগড়ের দাপুটে ইনাম!
ব্যারাকপুর: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই চেনা ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে উত্তর ২৪ পরগনার শিল্পাঞ্চলে। দীর্ঘদিনের ভয় কাটিয়ে অবশেষে মুখ খুলতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। আর তার জেরেই শুক্রবার রাতে খড়দহ থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন টিটাগড় পুরসভার সদ্য পদত্যাগী ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার ইনাম খান। তোলাবাজি, হুমকি এবং একাধিক বেআইনি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে টিটাগড়ের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এত দিন শাসকদলের (পূর্বতন) প্রভাবশালী কাউন্সিলার হওয়ার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পেতেন না। কিন্তু, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই ‘ভয় আউট’ আর ‘ভরসা ইন’![TECHTARANGA-POST:9622]টিটাগড় পুরসভায় শুক্রবারই বড়সড় ভাঙন ধরেছিল। পুরসভার মোট ২১ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যানসহ ৬ জন কাউন্সিলার একযোগে ইস্তফা দেন। ইস্তফা দেওয়া নেতাদের তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান প্রশান্ত চৌধুরী (১৬ নম্বর ওয়ার্ড), বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মহম্মদ জলিল (১৯ নম্বর ওয়ার্ড), কাউন্সিলার মুজিবর রহমান (১৮ নম্বর ওয়ার্ড), আশা শর্মা (৭ নম্বর ওয়ার্ড), সরস্বতী দাস (২০ নম্বর ওয়ার্ড) এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ইনাম খান। পদত্যাগী এই কাউন্সিলারদের দাবি ছিল, পুরসভায় তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছিলেন না এবং ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এই গণ-ইস্তফার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইনাম খানের গ্রেফতারি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।[TECHTARANGA-POST:9621]রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই জেলায় জেলায় বিদায়ী শাসকদলের কাউন্সিলারদের ভূমিকা ও সম্পত্তি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কাউন্সিলাররা নিজেদের গাড়ি-বাড়িসহ নানা বৈভব বাড়িয়ে নিলেও এলাকার মানুষ নূন্যতম নাগরিক পরিষেবা পায়নি। দুর্নীতি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে দিকে দিকে পুরবাসী পথে নেমে প্রতিবাদ করছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইনাম খানের বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকিদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।