তৃণমূলের ভরাডুবির নেপথ্যে আইপ্যাক-ই ‘ভিলেন’! বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা: ১৫ বছরের শাসনকাল শেষ হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের বিবাদ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে বেরোতে শুরু করেছে। হারের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে খোদ ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-কে কাঠগড়ায় তুললেন দলের প্রবীণ নেতা তথা শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ দাবি, দলের এই সর্বনাশের মূলে রয়েছে ‘কর্পোরেট কালচার’ এবং আইপ্যাকের ভুল পরামর্শ।[TECHTARANGA-POST:8968]রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের আবহেই দলের অন্দরের সমীকরণ বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন কল্যাণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসাবে পরিচিত এই নেতা বলেন, “২০২১ সাল থেকেই আমি সতর্ক করেছিলাম। আইপ্যাক একটি ‘সিরিয়াস ইস্যু’। এই সংস্থার লোকজনই সংগঠনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে।” এমনকী, ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরকেও তীব্র আক্রমণ করে তিনি জানান, পিকে-র মতো মানুষরা ভারতের রাজনৈতিক দলগুলির কাঠামো নষ্ট করে দিচ্ছেন। দুর্ভাগ্যবশত দলের নেতারা ওঁর উপর অতিরিক্ত ভরসা করেছিলেন।[TECHTARANGA-POST:8949]সাংসদ কল্যাণের বক্তব্যে এদিন দলের রণকৌশল এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের ছবিটাও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, “উত্থান থাকলে পতন থাকবেই। ক্ষমতার দম্ভে ‘আমিত্ব’ বেড়ে গেলে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। আমরা হয়তো মানুষের জন্য ভালো ছিলাম না, তাই তাঁরা আমাদের সরিয়ে দিয়েছেন।” একই সঙ্গে টিকিট না পাওয়া অসন্তুষ্ট নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়েও নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। তবে, দলের এই কঠিন সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বুদ্ধি’র প্রশংসা করলেও, নেতৃত্বে যে আমূল পরিবর্তন দরকার — সেই বার্তাও দিতে ভোলেননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।