বিধায়কদের ‘ভুয়ো সই’ বিতর্ক! রক্ষাকবচ তো দূর, হাই কোর্টে চরম ধাক্কা খেলেন জেরবার অভিষেক
কলকাতা: বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খোদ দলীয় বিধায়কদের ‘সই জাল’ করার মারাত্মক অভিযোগে এবার আইনি গ্যাঁড়াকলে জড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডির পাঠানো নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে এবং গ্রেফতারি এড়াতে রক্ষাকবচের দাবিতে জরুরি ভিত্তিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। কিন্তু শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেলেন তিনি। মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি সাফ খারিজ করে দিলেন বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাস। ফলে সই কাণ্ডে আপাতত কোনো আইনি স্বস্তি মিলল না ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের। একদিকে দলে নজিরবিহীন ভাঙন, আর অন্যদিকে সিআইডি ও ইডির এই সাঁড়াশি আক্রমণে তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ যে বর্তমানে চরম রাজনৈতিক ও আইনি সংকটে, তা বলাই বাহুল্য।[TECHTARANGA-POST:9762]এই নজিরবিহীন সই বিতর্কের সূত্রপাত গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রীর ডাকা বিধায়কদের বৈঠককে কেন্দ্র করে, যেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় বিধায়কদের শপথগ্রহণের পর নিয়ম মেনে সই করেন সকলে। বিধানসভার সচিবের নিয়মমাফিক চাহিদামতো ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডেকে অনুপস্থিত বিধায়কদের বাদ দিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি সমর্থনপত্র বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়। কিন্তু বিধানসভার খাতায় থাকা সইয়ের সঙ্গে এই তালিকার সই মেলাতেই দেখা যায় ব্যাপক গরমিল। সই জালিয়াতির গন্ধ পেয়েই বিধানসভার সচিব থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং মামলার গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার নেয় সিআইডি। এই জালিয়াতি কাণ্ডেই নাম জড়ানোয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছিল সিআইডি। প্রথমবার অসুস্থতার দোহাই দিয়ে ১৫ দিনের সময় চেয়ে হাজিরা এড়িয়ে গেলেও, কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডিও সমান্তরালভাবে তাঁকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নোটিস ধরানোয় চাপ ক্রমশ বাড়ছে। হাই কোর্ট দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় সিআইডির মুখোমুখি হওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।