কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার কোমর বেঁধে রাজপথে নামছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিয়ালদা ও হাওড়া স্টেশন চত্বরে যে ব্যাপক হকার উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে, তার প্রতিবাদেই এবার বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিল ঘাসফুল শিবির। আগামী ২১ মে হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ স্টেশন এবং বালিগঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় একযোগে বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। মঙ্গলবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।[TECHTARANGA-POST:9281]তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজ্যে ক্ষমতা দখল করেই বিজেপি সরকার চরম প্রতিহিংসামূলক ‘বুলডোজার রাজনীতি’ শুরু করেছে। কোনও বিকল্প পুনর্বাসনের পরিকল্পনা ছাড়াই গরিব হকার ও ছোট ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভেঙে তাঁদের জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার পরিবারের ভবিষ্যৎ রাতারাতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।[TECHTARANGA-POST:9188]গত ৩০ এপ্রিল পূর্ব রেলের তরফে এক নোটিস জারি করে ২ মে-র মধ্যে রেলের সমস্ত জমি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সময়সীমা কিছুটা বাড়ানো হলেও, ডেডলাইন শেষ হতেই শুরু হয় অল-আউট বুলডোজার অভিযান। গত সপ্তাহে শনিবার রাতে হাওড়া স্টেশন চত্বরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫০টি ‘অবৈধ’ স্টল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই ছবি দেখা গিয়েছে শিয়ালদহতেও। [TECHTARANGA-POST:9280]সেখানে ১ নম্বর থেকে ২১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সামনের বিস্তীর্ণ অংশ পুরোপুরি হকারমুক্ত করা হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিত্যযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও যাতায়াতের সুবিধার স্বার্থেই এই আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। রেলের এই সিদ্ধান্তে নিত্যযাত্রীদের একটা বড় অংশ খুশি হলেও, উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে হাহাকার করছেন।[TECHTARANGA-POST:9264]রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই উচ্ছেদ অভিযান কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়েছে। হকারদের পক্ষে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া পোস্ট করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স (টুইটার) পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'বাংলা বুলডোজারের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। বাড়িঘর থেকে ফুটপাথের দোকান; গরিব মানুষ আজ রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যের মূল্য দিচ্ছেন।'অন্যদিকে, এই উচ্ছেদকে সম্পূর্ণ আইনি এবং জরুরি বলে দাবি করেছে শাসকদল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের পালটা দাবি, তৃণমূলের আমলেই স্টেশন চত্বরে বেআইনিভাবে এই হকারদের বসানো হয়েছিল এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাঁদের কাছ থেকে নিয়মিত ‘তোলাবাজি’ চলত। নতুন সরকার এসে সেই দুর্নীতির চক্রই ভেঙে দিচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:9179]রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর প্রধান বিরোধী দল হিসাবে এটাই তৃণমূলের প্রথম বড় রাস্তার লড়াই। ২১ মে-র এই স্টেশন ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হাওড়া ও শিয়ালদহের পরিস্থিতি কেমন হয়, এখন সেটাই দেখার।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার