‘মন সম্মতি দিচ্ছে না!’ মমতাকে বিস্ফোরক চিঠি দিয়ে পদ ছাড়লেন শান্তনু সেন, আর জি কর নিয়ে দিলেন শুভেন্দুকে সাহায্যের বার্তা!
কলকাতা: ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে ভাঙন ও পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়েছে, তা যেন কিছুতেই থামবার নাম নিচ্ছে না। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তীর পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরও এক হেভিওয়েট নাম।[TECHTARANGA-POST:9560] বৃহস্পতিবার দলের সমস্ত ভুলত্রুটি ও কেলেঙ্কারি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বর্ষীয়ান চিকিৎসক-নেতা ডাঃ শান্তনু সেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো এক বিস্ফোরক ইস্তফাপত্রে তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, আর জি কর কাণ্ড, অভয়া কাণ্ড এবং চাকরি বিক্রির মতো একের পর এক অনৈতিক কাজ ও দুর্নীতির কারণে বাংলার মানুষ যখন দলকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন একজন মুখপাত্র হিসেবে আর কোনোভাবেই এসবকে সমর্থন করার মতো সম্মতি তাঁর বিবেক বা মন দিচ্ছে না।[TECHTARANGA-POST:9563]উল্লেখ্য, আর জি কর কাণ্ড নিয়ে অতীতে দলের লাইনের বাইরে গিয়ে সরব হওয়ায় শান্তনু সেনকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পরে অবশ্য সেই ক্ষোভের বরফ গলেছিল এবং সাসপেনশন প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনরায় জাতীয় মুখপাত্রের পদে বহাল করা হয়। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে আর জি করের ফাইল নতুন করে খুলতেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন আর জি করের এই প্রাক্তন প্রাক্তনী। বুধবারই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আর জি করের তৎকালীন বিতর্কিত অধ্যক্ষ ডাঃ সন্দীপ ঘোষ এবং আর জি করের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা চিকিৎসক-বিধায়ক সুদীপ্ত রায়ের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন শান্তনু সেন।[TECHTARANGA-POST:9527] শুধু তাই নয়, তিনি স্পষ্ট জানান, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাইলে আর জি করের ঘটনার বহু গোপন তথ্য দিয়ে আমি তাঁকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। এতদিন শুধুমাত্র মেয়ের ডাক্তারী ক্যারিয়ারের কথা ভেবে মুখ বন্ধ রেখেছিলাম, কিন্তু এখন মেয়ে ডাক্তার হয়ে গিয়েছে, তাই আমার আর কোনো পিছুটান নেই।’ এর পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ত্রাস সৃষ্টি করা বহু চর্চিত ‘উত্তরবঙ্গ লবি’ নিয়েও কড়া ভাষায় সরব হন তিনি।[TECHTARANGA-POST:9551]শান্তনু সেনের এই বিস্ফোরক ইন্টারভিউ দেখেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ আঁচ করেছিল যে জোড়াফুল শিবিরে তাঁর দিন বোধহয় ফুরিয়ে এসেছে, আর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই আশঙ্কা এক্কেবারে সত্যি হলো। দলনেত্রীকে দেওয়া চিঠিতে নিজেকে তৃণমূলের ‘অনুগত সৈনিক’ দাবি করেও শান্তনু লিখেছেন, অতীতে বহু কঠিন সময়ে নিজের মন সায় না দিলেও টেলিভিশনের পর্দায় দলের হয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন তিনি, যার জন্য সাধারণ মানুষের বহু গঞ্জনা ও কটু কথা শুনতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু এখন আর সেই অনৈতিকতার পক্ষে সওয়াল করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। [TECHTARANGA-POST:9519]এদিকে, শান্তনু সেনের এই ইস্তফার সমান্তরালেই দলের অস্বস্তি দ্বিগুণ বাড়িয়ে কলকাতা পুরসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার পর আজ দলীয় মুখপাত্রের পদ থেকেও সরকারিভাবে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তীও। নির্বাচনের পর যেভাবে একের পর এক প্রথম সারির নেতারা দলের দুর্নীতিকে কাঠগড়ায় তুলে মুখ ফেরাচ্ছেন, তাতে তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব যে গভীর সংকটে, তা বলাই বাহুল্য।