নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মারাত্মক প্রভাব পড়েছে ভারতের অর্থনীতিতেও। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমাগত বাড়ছে জ্বালানির দাম, দেশের বাজারে তৈরি হয়েছে বড়সড় সঙ্কটের আশঙ্কা, আর সেই সঙ্গে অব্যাহত রয়েছে রুপির মূল্যে রেকর্ড পতন। এই অভূতপূর্ব আর্থিক মন্দা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সম্প্রতি পাঁচ দেশের এক সপ্তাহের সফর শেষ করে দেশে ফিরেই বৃহস্পতিবার সমস্ত পূর্ণমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নতুন দফতর ‘সেবাতীর্থ’-এ প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলা এই ম্যারাথন বৈঠকে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং সংস্কারের গতি বাড়াতে মন্ত্রীদের স্পষ্ট গাইডলাইন ও কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।[TECHTARANGA-POST:9371]প্রশাসনিক সূত্রে খবর, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া এই সঙ্কটজনক অবস্থা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মূলত তিনটি মূল মন্ত্র বা বার্তা দিয়েছেন মোদী। প্রথমত, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সরকারি ফাইল ছাড়তে হবে এবং সমস্ত বকেয়া কাজ অবিলম্বে শেষ করতে হবে। কাজের প্রক্রিয়াকে আরও সরল করে কম সময়ে বেশি কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, এই স্পর্শকাতর সময়ে মন্ত্রীদের সমস্ত রকম অনর্থক বিতর্ক বা রাজনৈতিক তরজা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; তাঁদের একমাত্র ফোকাস হতে হবে সুশাসন ও নাগরিক পরিষেবা। তৃতীয়ত, দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে নতুন করে আর্থিক সংস্কারে গতি আনতে হবে, যাকে প্রধানমন্ত্রী ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রতিটি মন্ত্রক কীভাবে এই সংস্কারের পথে হাঁটবে, তার সুনির্দিষ্ট রিপোর্টও দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:9369]বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধের ফলে ভারত মূলত এলপিজি এবং অন্যান্য গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে বড় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়ায় দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়াতে পারে, যা পরোক্ষভাবে দেশের শিল্প ক্ষেত্রে ঋণের খরচ বাড়িয়ে সামগ্রিক আর্থিক বৃদ্ধিকে ধাক্কা দিতে পারে। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী গ্যাস সঙ্কটের বিকল্প হিসেবে দেশে ‘জৈব গ্যাস’ বা বায়োগ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের সতর্ক করে বলেন, “এটি নিছক কোনও স্লোগান নয়, এটি দেশবাসীর কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি।” এই কঠিন সময়কে পূর্ববর্তী কোভিড সঙ্কটের সঙ্গে তুলনা করে সকলকে অত্যন্ত সংযত ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার