মাঝরাতে বোমার শব্দে কেঁপে উঠল নন্দীগ্রাম! টার্গেট বিজেপি নেতা, সুফিয়ানের দিকে আঙুল তুলে এনআইএ তদন্তের দাবি
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পূর্ব মেদিনীপুরের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। এবার খোদ বিজেপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে মাঝরাতে বোমাবাজির অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দাউদপুর অঞ্চলের নয়নান গ্রাম। অভিযোগের তির সরাসরি নন্দীগ্রামের তৃণমূলের দাপুটে নেতা শেখ সুফিয়ান ও শামসুল ইসলামের দিকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের ভোটের মুখে বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রামের আকাশ। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় পুলিশের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ-র তদন্ত দাবি করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:8092]বিজেপির অভিযোগ, রবিবার গভীর রাতে তমলুক সাংগঠনিক জেলার সংখ্যালঘু মোর্চার সম্পাদক আব্বাস বেগের বাড়ি লক্ষ্য করে অতর্কিতে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে বাড়ির দরজার সামনেই বোমা ফেটে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ, প্রতিবেশী ও বাড়ির লোকজন চিৎকার করে বেরিয়ে আসতেই দুষ্কৃতীরা আরও দুটি তাজা বোমা সেখানে ফেলে রেখে চম্পট দেয়। আব্বাস বেগের দাবি, বিজেপি করার অপরাধে শেখ সুফিয়ান তাঁকে বেশ কিছুদিন ধরেই সামাজিক বয়কটের হুমকি দিচ্ছিলেন, আর সেই হুমকিরই চূড়ান্ত পরিণতি এই রাতের অন্ধকারে হামলা।[TECHTARANGA-POST:8091]যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান। তাঁর পাল্টা দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের বিন্দুমাত্র যোগ নেই এবং পুরোটাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিজেপি নেতা আব্বাস বেগকে কটাক্ষ করে তিনি জানান, এমন "ছোটখাটো" লোককে নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় তাঁর নেই। খবর পেয়েই এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী পৌঁছয় এবং বোমা দুটি নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু হয়। তবে শান্ত নন্দীগ্রামে ফের এই বোমা-রাজনীতি ফিরে আসায় দাউদপুর এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভোটের আগে এই বারুদ যুদ্ধের ইঙ্গিত নন্দীগ্রামের লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।