‘কণ্ঠস্বর আমারই, তাও দেব না!’ আদালতে এই যুক্তিতেই কি ফেঁসে গেলেন অভিষেক? মিলল না রক্ষাকবচ
কলকাতা: ভোটের প্রচারে ডিজে বাজানো সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্য ও থানার মামলার জেরে এবার চরম আইনি বিপাকে পড়লেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কণ্ঠস্বরের নমুনা (Voice Sample) দেওয়ার পরীক্ষার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও, আজ মঙ্গলবার সেখান থেকে কোনো রক্ষাকবচ পেলেন না তিনি। [TECHTARANGA-POST:10432]উল্টে শুনানি চলাকালীন অভিষেকের আইনজীবীকে বিচারপতির একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় এবং শেষ পর্যন্ত মামলাটি থেকেই সরে দাঁড়ান বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। সিআইডি (CID) আজই তাঁর কণ্ঠস্বর রেকর্ড করার দিন ধার্য করেছিল, কিন্তু আদালতের দরজা ধাক্কা দিয়েও কোনো স্বস্তি না মেলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অস্বস্তি যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।[TECHTARANGA-POST:10456]গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি কৌশিক চন্দ এই মামলার অনুমতি দিলেও গতকাল সোমবার তিনি এজলাসে না বসায়, দ্রুত শুনানির স্বার্থে আজ মামলাটি ওঠে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে। সেখানেই শুরু হয় হাই-ভোল্টেজ সওয়াল-জবাব। শুনানির শুরুতেই বিচারপতি স্পষ্ট জানান, তদন্তকারী সংস্থা কীভাবে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করবে, তা সম্পূর্ণ তাদের এক্তিয়ার, এতে আদালত কেন নাক গলাবে? [TECHTARANGA-POST:10414]এর জবাবে অভিষেকের আইনজীবী সওয়াল করেন, “আমি তো স্বীকারই করছি যে ওই বিতর্কিত কণ্ঠস্বরটি আমার মক্কেলের।” এই যুক্তি শুনেই পালটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন বিচারপতি ঘোষ। তিনি বলেন, “যদি কণ্ঠস্বর আপনারই হয়, তবে পুলিশের কাছে গিয়ে নতুন করে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে অসুবিধাটা কোথায়?” বিচারপতির এই মোক্ষম প্রশ্নের পর আর কোনো সদুত্তর মেলেনি আবেদনকারীর তরফ থেকে।ডিম ছোড়া বিতর্কে শমীক ভট্টাচার্যের তীব্র প্রতিক্রিয়াআইনি জাঁতাকল থেকে বাঁচতে মরিয়া অভিষেকের আইনজীবী আদালতে আরজি জানান, আদালত এর আগে তদন্তে সহযোগিতার শর্তে রক্ষাকবচ দিয়েছিল, এখন কণ্ঠস্বর না দিলে পুলিশ অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সাফ জানিয়ে দেন, এই মূল এফআইআর (FIR) খারিজের মামলাটি ইতিমধ্যে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিচারাধীন রয়েছে। [TECHTARANGA-POST:10412]তাই একই বিষয়ে সমান্তরালভাবে অন্য বেঞ্চে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব নয়। এই পর্যবেক্ষণ জানিয়েই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি ঘোষ এবং পুরো বিষয়টি পুনরায় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে ফেরত পাঠিয়ে দেন। ফলে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ বা রক্ষাকবচ ছাড়াই সিআইডি-র মুখোমুখি হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন অভিষেক।