Kolkata: কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের গাফিলতিতে শিশুর পা ভেঙে যাওয়া এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। একই দিনে আরও এক প্রসূতির মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে।
[TECHTARANGA-POST:6497]
শোভাবাজার হাটখোলার বাসিন্দা সিমরান কুমারীকে গত সোমবার আরজি করের ‘অ্যানেক্স’ অবিনাশ দত্ত ম্যাটার্নিটি হোমে ভর্তি করা হয়। বুধবার তাঁর সিজারের পর কন্যা সন্তান জন্মায়। পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় নবজাতকের বাঁ পায়ের ফিমার হাড় (Femur Bone) ভেঙে যায়। জন্মের পর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে আরজি করের SNCU-তে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্রিচ প্রেজেনটেশন (Breech Presentation): শিশুটি গর্ভে উল্টো অবস্থায় ছিল (মাথা উপরের দিকে)। সাধারণ প্রসবের চেষ্টা করতে গিয়ে মাথায় চাপ পড়ায় জরুরি ভিত্তিতে সিজার করা হয়, যা হাড় ভাঙার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
হাসপাতালের দাবি, মৃত্যুর কারণ হাড় ভাঙা নয়, বরং ‘বার্থ অ্যাসফিক্সিয়া’ (Birth Asphyxia)। জন্মের পর শিশুটি একবারও কাঁদেনি এবং তার ফুসফুস প্রসারিত না হওয়ায় মস্তিষ্কে অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতি দেখা দেয়। এর ফলে ‘মাল্টি-অর্গান ফেলিয়োর’ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, তিলজলার বাসিন্দা পারুল খাতুন নামে আরেক প্রসূতি মৃত সন্তান প্রসব করেন। পরিবারের অভিযোগ, গাফিলতির কারণে গর্ভেই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় দেখা যায় শিশুটি আগে থেকেই মৃত ছিল।
[TECHTARANGA-POST:6493]
আরজি করের উপাধ্যক্ষ সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মেলেনি। তবে দুটি ঘটনারই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। পরিবারকে লিখিত অভিযোগ জানাতে বলা হলেও এখনো তা জমা পড়েনি।
Leave a comment