নয়াদিল্লি: দেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র তথা চরম সুরক্ষিত রাইসিনা হিলের নর্থ ব্লকে আচমকা বিধ্বংসী আগুনের আতঙ্কে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র এবং অর্থ মন্ত্রকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দফতরে যে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ আমলের প্রশাসনিক ভবনে অবস্থিত, সোমবার সকালে সেখান থেকেই কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়।
ধোঁয়া দেখামাত্রই গোটা সংসদ ভবনের চত্বর ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি ফায়ার সার্ভিস। তবে প্রাথমিক আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ ও দমকল সূত্রে জানানো হয়েছে।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ঠিক ১১টা ১০ মিনিট নাগাদ নর্থ ব্লকের ছাদ থেকে ধোঁয়া বেরোনোর খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয় দমকলের ছয়-ছয়টি ইঞ্জিন।
উত্তর ব্লকের ঐতিহাসিক ভবনটিতে দীর্ঘদিন ধরেই কিছু সংস্কারমূলক কাজ চলছিল। সেই কাজের স্বার্থে ছাদের উপর বেশ কয়েকজন শ্রমিকও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, ছাদের ওপর পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখা একটি পুরোনো প্লাস্টিকের জলের ট্যাঙ্কে কোনোভাবে আগুন লেগে যায়। প্লাস্টিক জ্বলতে শুরু করায় মুহূর্তে চারিদিক ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এবং বহুদূর থেকেও সেই কালো ধোঁয়া প্রত্যক্ষ করা সম্ভব হয়।
তবে পরিস্থিতি বড় আকার নেওয়ার আগেই সেখানে উপস্থিত শ্রমিকেরা সতর্কতার সঙ্গে তৎপর হয়ে ছাদের সেই আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর মেলেনি এবং ভবনের অভ্যন্তরীণ কোনো সরকারি দপ্তর বা নথিপত্রের ক্ষতি হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।
সংসদে যাওয়ার পথে নর্থ ব্লকের এই ধোঁয়ার কুণ্ডলী প্রথম প্রত্যক্ষ করেন রাজ্যসভার সাংসদ মিলিন্দ দেওরা। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে লেখেন, “সংসদে যাওয়ার পথে নর্থ ব্লকের পেছন থেকে ধোঁয়ার ঘন কুণ্ডলী উঠতে দেখলাম। মনে হচ্ছে সেখানে কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আশা করি সবাই নিরাপদ আছেন এবং জরুরি পরিষেবা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।”
দেশের সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল সরকারি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের খবর সামনে আসতেই প্রশাসনিক স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও, দেশের প্রধান প্রশাসনিক ভবনের ছাদে সংস্কার কাজের সময়ে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Leave a comment