লখনউ: আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক জয় পেল কংগ্রেস। জোড়া ধাক্কা সামলে শেষ পর্যন্ত বড়সড় স্বস্তি মিলল লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর। ২০১৮ সালের একটি বহুল চর্চিত মানহানির মামলায় লখনউয়ের কাছে সুলতানপুরের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালত তাঁকে ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ’ বলে ঘোষণা করে বেকসুর খালাস দিয়েছে।
প্রমাণের অভাব এবং মন্তব্যের মধ্যে কোনও কুৎসিত অভিপ্রায় না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট শুভম বর্মা এই ঐতিহাসিক রায় দেন। সোমবার সকালে সড়কপথে লখনউ থেকে সুলতানপুর আদালতে যাওয়ার পথে পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়েতে রাহুলের কনভয়ে পরপর কয়েকটি গাড়ির সংঘর্ষের দুর্ঘটনা ঘটলেও অক্ষত অবস্থায় আদালতে পৌঁছান তিনি এবং শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে হাসেন শেষ হাসি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালের মে মাসে। কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেঙ্গালুরুতে এক জনসভায় বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা তৎকালীন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে রাহুলের বিরুদ্ধে।
এই মন্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে, এই দাবি তুলে ২০১৮ সালের ৪ আগস্ট সুলতানপুর জেলা সমবায় ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা স্থানীয় বিজেপি নেতা বিজয় মিশ্র রাহুলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করেন।
প্রায় ৮ বছর ধরে চলা এই মামলায় বহু চড়াই-উতরাই দেখেছে রাজনীতি। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন রাহুল। পরবর্তীতে রাহুলের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা করার জন্য বিজেপির আর্জি নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট পর্যন্ত খারিজ হয়ে যায়।
অবশেষে সোমবার সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকা রাহুলের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, মন্তব্যটি কোনো ব্যক্তিকে অপমান করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি, বরং রাজনীতির স্বাভাবিক পরিমণ্ডলে সদ্ভাব বজায় রেখেই তা বলা হয়েছিল। সেই যুক্তি গ্রাহ্য করে আদালত রাহুলকে সম্পূর্ণ নিষ্কৃতি দেয়।
উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই রায় বিজেপির মনস্তাত্ত্বিক কৌশলে এক বড় ধাক্কা। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব রাহুলকে ‘আইনি ফাঁসে’ কোণঠাসা করার যে রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে আসছিল, এই রায়ের পর সেই ন্যারেটিভ বড়সড় ধাক্কা খেল।
অন্যদিকে, হিন্দি বলয়ে বিশেষ করে হিন্দি হৃদভূমির মূল কেন্দ্র উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের রাজনৈতিক জমি হারিয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করার পর, এবার এই আইনি জয় কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করবে।
এই রায়কে হাতিয়ার করে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের হারানো সংগঠন পুনর্গঠন এবং ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পথ অনেকটাই সুগম হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
Leave a comment