25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home কলকাতা মমতার দুর্গে আরও এক বড় ধস! বিধাননগরের মেয়রের পদ ছাড়লেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী, তবে কি এবার পুরনিগমও হাতছাড়া তৃণমূলের?
কলকাতা

মমতার দুর্গে আরও এক বড় ধস! বিধাননগরের মেয়রের পদ ছাড়লেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী, তবে কি এবার পুরনিগমও হাতছাড়া তৃণমূলের?

Share
মমতার দুর্গে আরও এক বড় ধস! বিধাননগরের মেয়রের পদ ছাড়লেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী, তবে কি এবার পুরনিগমও হাতছাড়া তৃণমূলের?
প্রতীকী ছবি
Share

সল্টলেক: শাসক দলের মহাবিদ্রোহ ও চরম রাজনৈতিক ডামাডোলের আবহে এবার তৃণমূলের হাতছাড়া হতে চলেছে বিধাননগর পুরনিগমও! বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধাননগর পুরনিগমের মেয়রের পদ থেকে আকস্মিক পদত্যাগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও একনিষ্ঠ সঙ্গী কৃষ্ণা চক্রবর্তী। ইতিমধ্যেই পুরনিগমের কমিশনারের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারি এবং কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা দেওয়ার জল্পনার মাঝেই কৃষ্ণার এই সরে দাঁড়ানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, তবে কি সল্টলেক-রাজারহাটের প্রশাসনিক ক্ষমতাও এবার পুরোপুরি হারাতে চলেছে জোড়াফুল শিবির?

[TECHTARANGA-POST:9743]

টানা ১৬ বছর ধরে বিধাননগর পুরনিগমের প্রশাসনিক অলিন্দের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত কৃষ্ণা চক্রবর্তী। কখনও বরো চেয়ারম্যান, আবার কখনও মেয়রের গুরুদায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন তিনি। সম্প্রতি তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে প্রবল জনরোষ আছড়ে পড়লেও, স্বভাবসিদ্ধ মৃদুভাষী ও দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে থাকা কৃষ্ণার বিরুদ্ধে তেমন কোনও ক্ষোভ ছিল না সল্টলেকবাসীর। সেই দাপুটে নেত্রীই কেন হঠাৎ মাঝপথে পদ ছাড়লেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও এদিন মেয়রের ঘর থেকে নিজের জিনিসপত্র গুটিয়ে বেরনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষ্ণা চক্রবর্তী দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ বা অভিমান নেই। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই তিনি পদ ছেড়েছেন এবং এখন নিজের জন্য কিছুটা সময় চান। তবে মেয়রের পদ ছাড়লেও আগামী দিনে একজন সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে তিনি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

[TECHTARANGA-POST:9742]

কৃষ্ণার এই ইস্তফা কিন্তু রাজ্য রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিধায়ক কুণাল ঘোষের সাম্প্রতিক দাবি অনুযায়ী, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও ইতিমধ্যেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং তাতে খোদ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিও মিলেছে। একদিকে যখন বিধানসভায় সই কাণ্ড ঘটিয়ে তৃণমূলের ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ক ‘নতুন তৃণমূল’ গঠন করে বিরোধী আসনের রাশ নিজেদের হাতে নিয়েছেন, অন্যদিকে তখন একের পর এক পুরসভার শীর্ষ নেতৃত্ব পদ ছাড়ছেন। দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে গত কয়েকদিনে কলকাতা ও জেলার একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলর শ্রীঘরে গিয়েছেন। এই চরম ডামাডোলের মধ্যে বিধাননগরের মেয়রের এই ইস্তফা তৃণমূলের ক্ষয়ে যাওয়া পুর-সাম্রাজ্যের কফিনে শেষ পেরেক হতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *