25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ ‘সব জানি, অমিত শাহ ফোন করে বলেছিলেন…’ ভরা সভায় দেশবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে দায়ের মারাত্মক FIR
পশ্চিমবঙ্গ

‘সব জানি, অমিত শাহ ফোন করে বলেছিলেন…’ ভরা সভায় দেশবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে দায়ের মারাত্মক FIR

Share
'সব জানি, অমিত শাহ ফোন করে বলেছিলেন...' ভরা সভায় দেশবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে দায়ের মারাত্মক FIR
FILE IMAGE
Share

শিলিগুড়ি: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এবার উঠল দেশের চরম গোপন তথ্য ফাঁস এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের সম্মানহানির মতো মারাত্মক অভিযোগ! ২ জুনের রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জড়িয়ে অত্যন্ত উস্কানিমূলক ও বিতর্কিত মন্তব্য করার অপরাধে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। পদ চলে যেতেই কীভাবে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও কূটনীতিকে বিপন্ন করে এমন স্পর্শকাতর তথ্য হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

[TECHTARANGA-POST:9742]

আদালতের আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় মমতার বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার সূত্রপাত গত ডিসেম্বরে, যখন বাংলাদেশে খুন হন বিতর্কিত ওসমান হাদি। অভিযোগ, হাদির হত্যাকারীরা জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকলে রাজ্যের এসটিএফ (STF) দুজনকে গ্রেফতার করে। গত ২ জুনের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম উল্লেখ না করলেও এই প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, অন্য দেশে খুন হলেও কারা এর পেছনে জড়িত তা তিনি সব জানেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম জড়িয়ে দাবি করেন, ‘হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, আপনি বাংলার পুলিশকে বলে দিন এই কথা বাইরে যেন না বলে। এটা দেশের জন্য।’ এরপরই মমতা তোপ দেগে বলেন, কাকে দিয়ে খুন করানো হয়েছিল, কার কার নাম বেরিয়েছিল, সব তাঁর জানা আছে।

[TECHTARANGA-POST:9738]

অভিযোগকারিণী আইনজীবী রিঙ্কির স্পষ্ট দাবি, মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, তা এভাবে প্রকাশ করে বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডকে ভারত সরকারের নির্দেশে হওয়া খুন বলে চালানোর চেষ্টা করেছেন মমতা। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তীব্র সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা নত করেছে এবং বাংলাদেশে থাকা হিন্দুদের নিরাপত্তাকে বড়সড় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ক্ষমতা হারানোর পরই মৌলবাদীদের উস্কে দিতেই মমতা দেশের সুরক্ষার শপথ ভেঙেছেন বলে অভিযোগ। এই উস্কানিমূলক ও জনসম্প্রীতি বিনষ্টকারী মন্তব্যের জেরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানি, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তি ভঙ্গ করার চেষ্টা-সহ ১৫২, ১৫৩, ১৫৩-এ, ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১ এবং ৩৫২ ধারার মতো একাধিক কঠোর আইনি ধারা লাগু করা হয়েছে।

[TECHTARANGA-POST:9716]

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে কূটনৈতিক মহলে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ রাজা গোপাল ধর চক্রবর্তী এই বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ধরনা মঞ্চ থেকে করা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই উক্তি অত্যন্ত সাংঘাতিক। এর ফলে প্রতিবেশি রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষ্যাপিয়ে তোলার এবং আন্তর্জাতিক স্তরে আতঙ্ক ছড়ানোর একটা বড় চেষ্টা সফল হতে পারে। শুধু তাই নয়, এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের জেরে ওপার বাংলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর আক্রমণ আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে, পদ হারানোর পর মমতার এই ‘সত্য ভাণ্ডার’ খোলার মাশুল রাজ্য তথা দেশকে কতটা চোকাতে হয়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *