চেন্নাই: প্রথম ইনিংসের পরেই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
বাকিটা ছিল স্রেফ নিয়মরক্ষার আনুষ্ঠানিকতা। ফাইনালের মঞ্চে দক্ষিণাঞ্চলকে দাঁড়াতেই দিল না পূর্বাঞ্চল। গোটা ম্যাচ জুড়ে একচেটিয়া দাপট দেখিয়ে, দীর্ঘ ১৪ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে দলীপ ট্রফি নিজেদের দখলে নিল তারা। দলকে ঐতিহাসিক ট্রফি এনে দিলেন অধিনায়ক ঈশান কিষান। আর নিজের কেরিয়ারের ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচের শেষটা ট্রফি হাতে হাসিমুখে রাঙিয়ে নিলেন বাংলার অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামি।
চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পূর্বাঞ্চল পাহাড়প্রমাণ ৭০৮ রান তুলে ম্যাচের গতিপথ একপ্রকার একতরফা করে দিয়েছিল। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে অধিনায়ক ঈশান কিষান খেলেন ২৭০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। এছাড়া কুমার কুশাগ্র ১০১, শিখর মোহন ৮৫, অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৭২ এবং তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী ৪৪ রান করে বিরাট স্কোরের ভিত গড়ে দেন। জবাবে প্রথম ইনিংসে ৩৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চল। তিলক বর্মা ৯৯ ও দেবদত্ত পাড়িক্কল ৬২ রান করলেও বাকিরা ফ্লপ করেন। চেন্নাইয়ের পাটা উইকেটেও আগুন ঝরান শামি ও মুকেশ কুমার। শামি নেন ২ উইকেট এবং মুকেশ পান ৩টি উইকেট। প্রথম ইনিংসেই ৩৭২ রানের ম্যামথ লিড ঝুলিতে পুরে নেয় পূর্বাঞ্চল।
চতুর্থ দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে পূর্বাঞ্চলের রান ছিল ৫ উইকেটে ২১২। পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য অলৌকিক কিছুর প্রয়োজন ছিল দক্ষিণাঞ্চলের। কিন্তু দুই সেশন ব্যাট করেও মাত্র ২টি উইকেট তুলে নিতে পারেন তিলক বর্মারা। দিনের শুরুতেই কুশাগ্র ৪৬ রানে আউট হলেও মহম্মদ কুরেশি ও অনুকূল রায়ের দুর্দান্ত ১৫০ রানের জুটি দক্ষিণাঞ্চলকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়। অনুকূল ৬৪ রানে ফিরলেও অপরাজিত ১১৬ রানের ঝকঝকে শতরান হাঁকান কুরেশি। দ্বিতীয় ইনিংসেও ঈশানের সামনে শতরানের সুযোগ ছিল, তবে ৮০ রানে আউট হন তিনি। শিখর করেন ৫২ রান।
পঞ্চম দিন চা-বিরতির ঠিক আধ ঘণ্টা আগে ৭ উইকেটে ৩৮৮ রানে পৌঁছে যখন পূর্বাঞ্চলের মোট লিড দাঁড়ায় ৭০৮ রান, তখন খেলা শেষ করার প্রস্তাব দেন ঈশান। তা সানন্দে মেনে নেন দক্ষিণাঞ্চল অধিনায়ক তিলক বর্মা। মাঠে নেমে পড়ে উল্লাসে মাতেন পূর্বাঞ্চলের ক্রিকেটারেরা। বৈভব সূর্যবংশীর উদ্দাম নাচ থেকে শুরু করে গোটা দলের ভিক্টরি হাডল— অবসান ঘটে দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার। শততম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা শামিকে জড়িয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানান তিলক।
ফাইনালের আগে পূর্বাঞ্চলের দলটিকে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এক্স (সাবেক টুইটার) মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে সিএবি সভাপতি সৌরভ লেখেন, “ঈশান কিষানের নেতৃত্বে এত বছর পর আবার দলীপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় পূর্বাঞ্চলকে কুর্নিশ। পুরো প্রতিযোগিতায় ওরা অপরাজিত থেকে সেরা ক্রিকেটটাই খেলেছে।”
হিডেন স্টোরিজ নিউজ
Leave a comment