মুম্বই: দালের মেহেন্দিকে মঞ্চে হেনস্তা কিংবা ভোজপুরি গায়ক কেশরীলাল যাদবের ওপর চপ্পল মারার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি শিল্পীর কণ্ঠরোধের গুরুতর অভিযোগ উঠল সংগীত মহলে।
খোদ বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের মঞ্চে মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হলো ‘বেশরম রং’ খ্যাত জনপ্রিয় গায়িকা শিল্পা রাওয়ের মাইক্রোফোন! বলিউডের হেভিওয়েট শিল্পীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক জমজমাট সংগীতানুষ্ঠানে গায়িকার সঙ্গে এমন অপমানজনক আচরণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে অনুরাগীদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত সমালোচনার মুখে পড়ে আয়োজকদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হতে হয়েছে।
গত ২৪ অক্টোবর মুম্বইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড গার্ডেন্সে পালিত হচ্ছিল ‘বলিউড মিউজিক প্রজেক্ট’ বা ‘বিএমপি’-র দশম বর্ষপূর্তি উৎসব। হিমেশ রেশমিয়া, অনু মালিক, হরিহরণদের পাশাপাশি সেখানে পারফর্ম করার কথা ছিল শিল্পা রাওয়েরও।
নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় রাত সাড়ে আটটা নাগাদ মঞ্চে উঠে ‘তোসে নয়না লাগে’ দিয়ে নিজের পরিবেশনা শুরু করেন তিনি। কিন্তু গানের শেষলগ্নে আচমকাই তাঁর মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সহকর্মীর দেওয়া অন্য মাইকে গান চালিয়ে গেলেও, পরবর্তীতে ‘ছুট্টামাল্লে’ গাওয়ার সময় ফের তাঁর মাইক্রোফোন এবং মূল মঞ্চের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি পাশের মঞ্চে পরবর্তী শিল্পীর অনুষ্ঠান শুরু করিয়ে দেওয়া হয়, যখন শিল্পা মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন।
এই চরম অপমানের মুখেও দর্শকদের ভালবাসাকে সম্বল করে শিল্পা জানান, তাঁর মাইকের প্রয়োজন নেই, দর্শকদের কণ্ঠই তাঁর শক্তি। তবে অনুষ্ঠান শেষ করার আগে তিনি দর্শকদের বিদায় জানাতে চাইলে বারবার তাঁর মাইক্রোফোন কেটে দেওয়া হয়।

শিল্পার ইনস্টাগ্রাম পোস্ট অনুযায়ী, “আজ রাতে আমার হৃদয়ের একটা ছোট্ট অংশ ভেঙে গিয়েছে। এত সুন্দর একটা মুহূর্ত এভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সেটা ভীষণ কষ্টের।” দর্শকদের একাংশের অভিযোগ, অন্য সিনিয়র শিল্পীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলেও শিল্পার ক্ষেত্রেই ইচ্ছাকৃতভাবে এই বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
ঘটনার তীব্র সমালোচনা শুরু হতেই আসরে নামে আয়োজকপক্ষ। গায়িকার কাছে ক্ষমা চেয়ে আয়োজকরা দাবি করেন, শিল্পার কাজের প্রতি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে, তবে পরিস্থিতির জেরে অনভিপ্রেত এই ঘটনা ঘটেছে।
Leave a comment