25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ Krishnakanta Saha: রাজনীতির কঠিন ময়দান ছেড়ে মেলাপ্রাঙ্গণে; বাবার স্মৃতি আঁকড়ে বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী মেলায় পুতুল বিক্রি বিধায়কের
পশ্চিমবঙ্গ

Krishnakanta Saha: রাজনীতির কঠিন ময়দান ছেড়ে মেলাপ্রাঙ্গণে; বাবার স্মৃতি আঁকড়ে বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী মেলায় পুতুল বিক্রি বিধায়কের

Share
Krishnakanta Saha: রাজনীতির কঠিন ময়দান ছেড়ে মেলাপ্রাঙ্গণে; বাবার স্মৃতি আঁকড়ে বীরভূমের ঐতিহ্যবাহী মেলায় পুতুল বিক্রি বিধায়কের
ছবি সংগৃহীত
Share

বীরভূম: পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার দাপট মানুষের জীবনের পথ বদলে দিলেও কি মোছা যায় শৈশবের রঙ? সেই উত্তরই নতুন করে ফিরিয়ে দিল বীরভূমের দেউচা রঘুনাথপুরের দেড়শো বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলা। ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে হুট করেই মেলাপ্রাঙ্গণে হাজির সাঁইথিয়ার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। তবে কোনও ফিতে কাটতে বা প্রধান অতিথি হিসেবে নয়, তিনি সোজাসুজি গিয়ে বসলেন মেলার একটি পুতুলের দোকানে। দোকানের রঙিন খেলনা সাঁজিয়ে নিজেই মেতে উঠলেন বিকিকিনিতে। একসময়ের সাধারণ পরিবারের ছেলেটি আজ জনপ্রতিনিধি হলেও, মেলায় বসে বাবার সঙ্গে কাটানো সেই পুরনো দিনের আবেগ তাঁকে নতুন করে ছুঁয়ে গেল।

বীরভূমের দেউচা রঘুনাথপুরে প্রতি বছর মনসা পুজো উপলক্ষে বিশাল মেলা বসে। এই মেলার সঙ্গে বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহার যোগসূত্র অত্যন্ত গভীর ও পারিবারিক। ছোটবেলায় এই মেলাতেই বাবা ও ভাইদের সঙ্গে পুতুলের দোকানে বসতেন তিনি। প্লাস্টিক ও মাটির নানা রঙের পুতুল সাজিয়ে সারাদিন ক্রেতাদের অপেক্ষা করতেন। সময় গড়িয়েছে নিজের নিয়মে, সেই সাধারণ ছেলেটিই আজ সাঁইথিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক। জীবনের দায়িত্ব বহুগুণ বেড়েছে, তবে মেলার টান আর বাবার স্মৃতি আজ এত বছর পর আবার তাঁকে ফিরিয়ে আনল শৈশবের আঙিনায়।

স্মৃতির ঝাঁপি খুলে এবারও মেলার শুরুতেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুতুলের দোকান সাজানোর দারুণ উদ্যোগ নেন বিধায়ক। রঙিন পুতুলের মায়াবী আবহ আর চারপাশের শিশুদের হাঁকডাকের মাঝে এক সাধারণ দোকানদারের ভূমিকায় ধরা দিলেন তিনি। স্মৃতিকাতর কৃষ্ণকান্তবাবু জানান, এই মেলার মেঠো গন্ধে তাঁর বহু স্মৃতি লুকিয়ে আছে। জীবনে পদ ও মর্যাদা তো অনেক কিছু বদলে দেয়, তবে নিজের শিকড়কে কখনও ভুলে যাওয়া উচিত নয়। বাবার হাত ধরে যেখানে ব্যবসা শিখেছিলেন, আজ এত বছর পর বিধায়ক হয়েও সেখানে বসতে পেরে তিনি মানসিকভাবে অতীতেই যেন ফিরে গিয়েছেন।

জনপ্রতিনিধিকে রাজনীতির কঠিন মঞ্চ ছেড়ে এভাবে সাধারণ মানুষের পাশে বসে পুতুল বিক্রি করতে দেখে অভিভূত স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের মতে, ক্ষমতায় এলে অনেকেই পুরনো অতীতকে ভুলে যান, সেখানে কৃ্ষ্ণকান্ত সাহা দেখিয়ে দিলেন শিকড় আঁকড়ে থাকার নামই আসল মানবতা। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা এক অতি সাধারণ ও আবেগপ্রবণ মানুষটিকে চিনে এদিন আপ্লুত মেলাপ্রাঙ্গণ।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *