নিউ ইয়র্ক: অক্টোবর শেষ হতে না হতেই চারদিকে এই যে কুমড়ো কেটে অদ্ভুত আলো জ্বালানো,ডাইনি-ভ্যাম্পায়ারের সাজে ঘুরে বেড়ানো আর ‘ট্রিক অর ট্রিট’ (Trick or Treat)খেলার ধুম—এ সবের পেছনের গল্পটা ঠিক কী?
আমাদের ভূত চতুর্দশী আর চোদ্দ প্রদীপের যেমন একটা আলাদা টান আছে,তেমনই পশ্চিমের এই ‘হ্যালোইন’(Halloween)-এরও রয়েছে এক অদ্ভুত, রোমাঞ্চকর ইতিহাস।
আজকে আমরা যে হ্যালোইন দেখি, তার শুরু কিন্তু কোনো মজার পার্টি দিয়ে হয়নি। প্রায় ২০০০ বছর আগে আয়ারল্যান্ড, ব্রিটেন ও উত্তর ফ্রান্সে বসবাসকারী ‘কেল্ট’ (Celts) উপজাতির হাত ধরে এর সূত্রপাত। অক্টোবরের শেষ রাতটিকে তারা বলত ‘সামহাইন’(Samhain)। এর অর্থ ছিল ‘গ্রীষ্মের সমাপ্তি’। সেল্টিক বিশ্বাস অনুযায়ী,৩১শে অক্টোবরের এই বিশেষ রাতটিতে জীবিত এবং মৃতদের জগতের মধ্যবর্তী অদৃশ্য দেওয়ালটি একেবারে ভেঙে পড়ে। পরলোকগত আত্মারা ধরাধামে ফিরে আসে ফসলের ক্ষতি করতে কিংবা জীবিতদের ভর করতে। অনিষ্টকারী আত্মাদের পথভ্রষ্ট করতে এবং অপচ্ছায়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে মানুষ আগুনের কুণ্ডলী জ্বালাত এবং পশুর চামড়া ও মাথার খুলি পরে ছদ্মবেশ ধারণ করত।
উৎসব তো বন্ধ করা গেল না,তাই বদলে দেওয়া হলো পরিচয়। চার্চের নির্দেশে নভেম্বরের শুরুটা উৎসর্গ করা হলো সব সাধুদের নামে—‘অল হ্যালোজ ডে’। কিন্তু আসল রোমাঞ্চ তো লুকিয়ে ছিল তার ঠিক আগের রাতে—‘অল হ্যালোজ ইভ’-এ। মুখের কথায় সেই নামই রূপ বদলাতে বদলাতে দাঁড়িয়ে গেল আজকের রূপকথার রাত: হ্যালোইন।
আরও পড়ুন : ধনতেরাসে সোনা-রুপোর পাশাপাশি ঝাড়ুও কেনেন অনেকে, জানেন এর নেপথ্যের বিশ্বাস?
Leave a comment