নয়াদিল্লি: দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানের সুবিশাল মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্র তথা বিজেপিকে একই বন্ধনীতে দাঁড় করিয়ে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের ক্ষত সামলে রবিবাসরীয় জাতীয় রাজধানীতে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে মুখ খুললেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সাফ ভাষায় জানিয়ে দিলেন, বাংলায় তাঁদের পরাজয় জনমতের রায় নয়, বরং পরিকল্পিত ভোট লুটের ফল।
গর্জে উঠে মমতা বললেন, “আমরা হারিনি, আমাদের চক্রান্ত করে হারানো হয়েছে। স্রেফ ভোট লুট করে জিতেছে বিজেপি, আর তার মাধ্যমেই দেশের অমূল্য গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণ হরণ করা হয়েছে।” একই সুর শোনা গেল সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের গলাতেও। বাংলায় চক্রান্ত করে বিজেপি জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বলে মমতার অভিযোগে সায় দিলেন তিনিও।
আরও পড়ুন:ড্রাইভার সিটে রাহুল! তিন নম্বর সিটে মমতা। রামলীলার আগে কি স্পষ্ট জোট সমীকরণ?
ভোটচুরির বিরুদ্ধে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন সুনিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের এই মেগা সমাবেশ থেকে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ফের অত্যন্ত চাঁচাছোলা ভাষায় কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আগের মতোই সিইসি-কে ‘ভ্যানিশ কুমার’ আখ্যা দিয়ে তিনি হুঙ্কার দেন, “বিজেপি এবং এই জ্ঞানেশ কুমারের দিন গণনা শুরু হয়ে গিয়েছে, দু’জনেই খুব শীঘ্রই ক্ষমতা থেকে বিদায় নেবে।” এ দিনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট করে দেন যে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
মমতা আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ আসলে নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার চরম শিকার হয়েছে, যার মাধ্যমে হাজার হাজার বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলে বাংলায় বিরোধী শক্তিকে বলপূর্বক রোখা হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক বক্তব্যকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে মঞ্চে দাঁড়িয়ে সুর চড়ান উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনিও সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন গোপন সমঝোতা ও চক্রান্তের মাধ্যমে বাংলায় প্রকাশ্যে ভোট লুট করেছে এবং জিতেছে।”
অখিলেশের মতে, বিজেপি ও কমিশনের এই অবৈধ অলিখিত আঁতাত এখন সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশের আমজনতা ও সচেতন নাগরিকরা এখন এই সব অন্যায্য ও পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। আর সেই কারণেই ব্যাকফুটে গিয়ে কমিশন আজ জবাবদিহি করতে বাধ্য হচ্ছে বলে দাবি করেন এসপি সুপ্রিমো।
রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের যৌথ মঞ্চ কেবল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগার মাধ্যমই হয়ে রইল না, বরং ২০২৬-এর বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যে এখনও জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, সে কথাটিই আবারও প্রমাণ করে দিল। বাংলায় তৃণমূলের হারের পর জাতীয় স্তরে যে নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, মমতা ও অখিলেশের এই জোড়া আক্রমণ তার মোড় ঘোরাতে মরিয়া।
বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে রামলীলা ময়দান থেকে বিরোধী নেতারা যে যৌথ আন্দোলনের বার্তা দিলেন, তা আগামী দিনে দিল্লির রাজনীতিতে কী ধরনের ঝড় তোলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
Leave a comment