ওয়াশিংটন: মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব অধ্যায়। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাজিমাত করে ইতিহাস গড়লেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সইদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে বিশাল ব্যবধানে পরাস্ত করে দেশের প্রথম মুসলিম সেনেটর হিসেবে মার্কিন সেনেটে নিজের স্থান পাকা করে নিলেন তিনি। ভোটাভুটিতে ট্রাম্পের ‘ইসলামভীতি’ উসকে দেওয়ার রাজনীতিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখান করে সইদকে বিপুল জনসমর্থনে বিজয়ী করেছেন মার্কিন জনতা।
বুধবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলপ্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে দু’লক্ষেরও বেশি ভোটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছেন সইদ। শতাংশের হিসাবে তিনি প্রায় ৫২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, যেখানে রজার্স আটকে যান ৪৬ শতাংশে। উল্লেখ্য, ভোটের প্রচারপর্বে রিপাবলিকান শিবির তথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে একাধিকবার উগ্র ইসলামবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে মেরুকরণের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের রায় স্পষ্ট করে দিল, ট্রাম্পের সেই পুরোনো ‘ইসলামভীতি’র কৌশল এখন আর বাক্সে প্রভাব ফেলতে পারছে না।
৪২ বছর বয়সি ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল সইদ পেশায় একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক ও প্রাক্তন জনস্বাস্থ্য আধিকারিক। মিশিগানের রচেস্টার হিলসের বাসিন্দা সইদের বাবা-মা ছিলেন মিশরীয় অভিবাসী। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলের টিকিট ছিনিয়ে এনেছিলেন সইদ। মজার বিষয় হলো, সইদের পারিবারিক জীবনের সঙ্গে রয়েছে ভারতের নিবিড় সংযোগ। তাঁর স্ত্রী সারাহ জুকাকু নিজেও একজন চিকিৎসক এবং তিনি পেশায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত।
আরও পড়ুন: “হিন্দুদের উৎসবে রাজনীতি আর নয়!” রবীন্দ্র-সুভাষ সরোবরে ছট ফেরানোর বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রার!
নির্বাচনে বিশাল জয় সুনিশ্চিত হওয়ার পর ডেট্রয়েটে আনন্দে উদ্বেলিত সমর্থকদের উদ্দেশে সইদ বলেন, “মিশিগান, আমরা অবশেষে ইতিহাস গড়তে পেরেছি! আমি অত্যন্ত গর্বিত এবং আপ্লুত যে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে মার্কিন সেনেটর হিসেবে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি।” পেশাগত জীবনে জনস্বাস্থ্যে দক্ষতা দেখানো সইদ সেনেটে সাধারণ মানুষের অধিকার এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমেরিকা জুড়ে এখন সইদের এই ঐতিহাসিক জয়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
Leave a comment