•
Home পশ্চিমবঙ্গ Kaali Idol: ইন্টারসিটি ট্রেনের কামরায় দেবী কালীর সফর, শান্তিপুরের নিপুণ প্রতিমায় মুর্শিদাবাদে আনন্দের জোয়ার
পশ্চিমবঙ্গ

Kaali Idol: ইন্টারসিটি ট্রেনের কামরায় দেবী কালীর সফর, শান্তিপুরের নিপুণ প্রতিমায় মুর্শিদাবাদে আনন্দের জোয়ার

Share
কালনায় ট্রেনের অপেক্ষায় মা কালী। নিজস্ব ছবি
Share

কালনা: সড়কপথ বা বিশেষ ভ্যান নয়, রীতিমতো ইন্টারসিটি ট্রেনে চড়েই নিজের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল আরাধ্যা দেবী কালীর মূর্তি। পূর্ব বর্ধমানের কালনা স্টেশন থেকে ট্রেনের সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গেই মুর্শিদাবাদের নিমতিতার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন সেই বিশেষ দেবী প্রতিমা। 

নদীয়ার শান্তিপুরের শিল্পীর সুনিপুণ হাতে তৈরি এই নিত্যকালী ঘরানার প্রতিমা ঘিরে যেমন ভক্তদের মধ্যে কৌতুহল দেখা গেছে, তেমনই স্টেশন চত্বরে পুণ্যার্থীদের প্রণাম ঠোকার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। আর এই ব্যতিক্রমী ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা রাজ্যজুড়ে।

শান্তিপুরের কারখানা থেকে ট্রেনের সফর

বুধবার পূর্ব বর্ধমানের কালনা স্টেশনে এক অপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন নিত্যযাত্রী ও রেলের সাধারণ যাত্রীরা। নদীয়ার শান্তিপুর শহরের শ্যামচাঁদপাড়া এলাকার এক নামী মৃৎশিল্পী শুভজিৎ দের তৈরি দেবী কালীর মূর্তি এ দিন কালনা স্টেশন থেকে ইন্টারসিটি ট্রেনে তোলা হয়। গন্তব্য সুদূর মুর্শিদাবাদ জেলার নিমতিতা।

শিল্পী শুভজিৎবাবু সংবাদমাধ্যমকে জানান, শান্তিপুরের এই বিশেষ ঘরানার প্রতিমার কদর শুধু স্থানীয় স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর পরিধি ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। এ দিন ট্রেনযাত্রার প্রাক্কালে তিনি জানান, অনলাইনে মুর্শিদাবাদ জেলার নিমতিতা নিবাসী অয়নাংশু বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। 

গত বছরও অয়নাংশুবাবু এই একই ঘরানার অপরূপ প্রতিমা তাঁর কাছ থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রতিমার পসন্দ ও কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি এবছরও আগাম অর্ডার দিয়েছিলেন। সেই অর্ডার নির্দিষ্ট সময়ে সম্পূর্ণ করার পরেই প্রতিমা সসম্মানে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার এই অভিনব বন্দোবস্ত করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘মানিককোড়া কালী’! ডাকাতদের পুজো থেকে আজকের জাগ্রত দেবী!

ভিন জেলায় কেন শান্তিপুরের প্রতিমার চাহিদা?

সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, মুর্শিদাবাদ কি প্রতিমা তৈরির জন্য পরিচিত নয়? বা সেখানে কি দক্ষ শিল্পী নেই? তবে এই প্রশ্নের উত্তরে শিল্পী শুভজিৎ স্পষ্ট জানান, “নিত্যকালী ঘরানার এই ধরনের প্রতিমা তৈরি ও তার যে সূক্ষ্ম কারুকার্য, তার জন্য শান্তিপুরের শিল্পীদের একটা আলাদা সুখ্যাতি রয়েছে।” গত দু’বছর ধরে সুদূর মুর্শিদাবাদ থেকে নিয়মিত এই অর্ডারের প্রাপ্তিই প্রমাণ করে যে শান্তিপুরের শিল্প সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং মাটির কাজের গুণমান আজও কতটা অটুট ও জনপ্রিয়। ভিন জেলায় শিল্পীর হাতের জাদুকরি ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা বাংলার লোকশিল্পের মুকুটে এক নতুন feather যোগ করেছে।

কালনা স্টেশনে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় ও পুণ্যার্থীদের শ্রদ্ধা

বুধবার যখন দেবীর এই প্রতিমা কালনা স্টেশন চত্বরে এসে পৌঁছোয়, তখন এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। সাধারণ ট্রেনযাত্রী থেকে শুরু করে স্টেশনে উপস্থিত বহু পুণ্যার্থী এই দুর্লভ মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে ভিড় জমান। অনেকে আবার ট্রেনে ওঠার আগেই চলন্ত বা দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিমার সামনে হাত জোড় করে প্রণাম ঠুকে নেন। কেউ কেউ আবার এই মুহূর্তটি নিজেদের ক্যামেরাবন্দী করতেও পিছপা হননি।

সাধারণত দেবদেবীর প্রতিমা ট্রাক বা ছোট বাণিজ্যিক গাড়িতে করেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু নিরাপত্তা এবং সঠিক উপায়ে নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিমা গন্তব্যে পৌঁছাতে ইন্টারসিটি ট্রেনের সাহায্য নেওয়ার এই অভিনব কায়দা নজর কেড়েছে সকলের। রেলের যাত্রীরাও এই দেবীর যাত্রাপথের সঙ্গী হতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করেছেন। সবমিলিয়ে, শিল্পীর সাধনা এবং ভক্তের ভক্তির মেলবন্ধনে কালনা থেকে নিমতিতার এই ট্রেন যাত্রা বাংলার উৎসবমুখর সংস্কৃতিরই এক অনন্য বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *