কলকাতা: ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে পুজোর প্রিভিউ পাস বিক্রি ও বিপুল টাকার দুর্নীতির মামলায় চরম নাটকীয় মোড় লালবাজারে। মামলার তদন্তে নেমে তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট গায়ক ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে মুখোমুখি জেরায় বসায় লালবাজারের বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’। আর সেই জেরার আসরেই গোয়েন্দা পুলিশের সামনে একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তীব্র তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন স্বামী-স্ত্রী। লালবাজার সূত্রে খবর, জেরা চলাকালীন মধুছন্দা দাবি করেন, তিনি নাকি ইন্দ্রনীলকে এভাবে অসাধু উপায়ে টাকা তুলতে বারবার বারণ করেছিলেন, কিন্তু ইন্দ্রনীল সেই কথায় কান দেননি। অন্যদিকে, ইন্দ্রনীলের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে মধুছন্দাও যে সমস্ত দুর্নীতির কথা জানতেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত গোয়েন্দারা। তাই তাঁকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।
এদিকে, তদন্তের আঁচ পৌঁছেছে ইন্দ্রনীল সেনের পরিবারেও। মঙ্গলবার তাঁর মেয়ে আভেরি সেনকে লালবাজারে তলব করা হলেও তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান। বুধবার দুপুরে তাঁকে পুনরায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবারও না এলে দ্বিতীয়বারের জন্য নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। তবে এই মামলায় সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, কলকাতা পুলিশ ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ‘মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার’ (এমপিও)-র ধারা প্রয়োগ করতে চলেছে। দেশে এই সংশোধিত নতুন আইন প্রথমবার কোনো মামলায় প্রয়োগ করা হচ্ছে। আয়ের বিপুল অসংগতি এবং কোনো বৈধ প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় এমপিও-র ২ ও ৯ নম্বর ধারা প্রয়োগের আবেদন নিয়ে ব্যাঙ্কশাল আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে লালবাজার। অপরাধ প্রমাণিত হলে এই ধারায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
আরও পড়ুন: ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে এবার গর্জে উঠবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার! শিলিগুড়ি মডেলের বিশাল সাফারি পার্ক নিয়ে বিরাট আপডেট!https://hiddenstories.news/2026/11/04/royal-bengal-tigers-roar-to-be-heard-in-jhargram-massive-safari-park-built-on-foreign-model/
শুধু পুজোর পাস বিক্রির জালিয়াতিই নয়, তদন্তে নেমে পর্যটন দপ্তরের বিভিন্ন টেন্ডার নিয়ে কোটি কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির হদিশ পেয়েছেন গোয়েন্দারা। অভিযোগের তির ইন্দ্রনীল ঘনিষ্ঠ তিনটি বেসরকারি সংস্থার দিকে। এই জালিয়াতির বহর সামলাতে ‘সিট’-এর সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে বাড়িয়ে ৯ জন করা হয়েছে, যার মধ্যে যুক্ত করা হয়েছে ব্যাঙ্ক ও জালিয়াতি দমন শাখার দুর্ধর্ষ আধিকারিকদের। এখনও পর্যন্ত ইন্দ্রনীলের স্ত্রী ও সংস্থাকর্মীসহ ৯ জনকে জেরা করেছে লালবাজার। পাশাপাশি, পাসে ইউনেস্কোর লোগো বেআইনিভাবে ব্যবহারের বিষয়ে ইউনেস্কোর দিল্লি অফিসে পুনরায় চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ। সব মিলিয়ে, রাজ্য রাজনীতিতে ইন্দ্রনীল সেনকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির জল যে আরও অনেক দূর গড়াতে চলেছে, তা একপ্রকার পরিষ্কার।
Leave a comment