কলকাতা: সকালে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা। আর বিকেলে মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান। রাজ্যে পর পর দু’টি এনকাউন্টারের ঘটনায় তোলপাড় রাজনীতির অন্দরমহল। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার পর মঙ্গলবার বিকেলে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে পুলিশের গুলিতে দুই অভিযুক্তের মৃত্যুর পর প্রশাসনিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানান, “কেউ আইন হাতে তুলে নিলে পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখতে পারে না। রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, মাদক নির্মূল এবং নারী নির্যাতন, এই দুই অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশকে হাত খুলে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে প্রথম ঘটনাটি ঘটে গাইঘাটায়। এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্তকে ধরতে গেলে সে তদন্তকারীদের ওপর হামলা চালায় বলে দাবি পুলিশের। আত্মরক্ষার্থে চালানো পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় তার।
এর ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে বিজেপি নেতা খুনে অভিযুক্ত এক আসামিও পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে এনকাউন্টারে খতম হয়। এ নিয়ে রাজ্যে গত তিন মাসে মোট তিনটি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটল।
এর আগে বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্তের পরিণতিও একই হয়েছিল। প্রতি ক্ষেত্রেই পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা প্রথমে অতর্কিত হামলা চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল, যার জবাবে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়।
পুলিশের এই ভূমিকাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী জানান, নেশামুক্তি এবং মহিলাদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করতে পুলিশ আধিকারিকদের সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
কর্তব্যে গিয়ে পুলিশ অফিসাররা কোনো সমস্যায় পড়লে তিনি নিজে ঢাল হয়ে সামনে দাঁড়াবেন। পশ্চিমবঙ্গকে দ্রুত ‘গুণ্ডামুক্ত’ করার হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “দেশের বেশিরভাগ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, তাই দুষ্কৃতীদের পালিয়ে বাঁচার কোনো জায়গা নেই। আইনের পথেই ওদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা হবে।”
এর পাশাপাশি চোরবাগানের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ‘অপপ্রচার’ চালানোর বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চোরবাগানের ঘটনা স্বীকার করতে বা সরকারের খামতি থাকলে তা শুধরে নিতে কোনও দ্বিধা নেই।
গঠনমূলক সমালোচনা এবং পরামর্শকেও স্বাগত জানানো হচ্ছে। কিন্তু ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভুল তথ্য ছড়িয়ে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসন এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং কাউকে রেয়াত করা হবে না বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
Leave a comment