25
October
2026
০৮ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার • হেমন্তকাল
সময় লোড হচ্ছে...
Home পশ্চিমবঙ্গ Sandakphu Trek: সান্দাকফু-ফালুটে মৃত্যুমিছিল রুখতে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত! না মানলে আটকে যাবে শৈলরানির সফর
পশ্চিমবঙ্গ

Sandakphu Trek: সান্দাকফু-ফালুটে মৃত্যুমিছিল রুখতে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত! না মানলে আটকে যাবে শৈলরানির সফর

Share
সান্দাকফু ও ফালুট ট্রেকিংয়ে নয়া নিয়ম। ফাইল চিত্র
Share

দার্জিলিং: বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার শোভা উপভোগ করতে বা পাহাড়ি ট্রেইলে রোমাঞ্চের খোঁজে যাঁরা সান্দাকফু ও ফালুট যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। এবার থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ফুট উঁচু এই শৈলশিরায় পা রাখার আগে পর্যটকদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক করা হলো। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে পর পর দু’জন পর্যটকের অকালমৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে জিটিএ-র পর্যটন বিভাগ একটি নতুন এসওপি (SOP) বা নির্দেশিকা জারি করেছে, যা অমান্য করলে সফর বাতিল তো হবেই, এমনকি আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সান্দাকফু ও ফালুটগামী ট্রেকার কিংবা ল্যান্ডরোভারের যাত্রীদের সফর শুরুর আগে চিকিৎসকের শারীরিক ফিটনেস সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। যাঁদের কাছে সেই সার্টিফিকেট থাকবে না, তাঁদের যাত্রার প্রবেশদ্বার অর্থাৎ মানেভঞ্জন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করাতে হবে। সেখানে কোনো পর্যটককে শারীরিকভাবে অনুপযুক্ত বা ‘আনফিট’ মনে হলে তাঁকে আর পাহাড়ের উঁচুতে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোচবিহারের বাসিন্দা ২৬ বছরের তরুণ প্রিয়তোষ অধিকারী এবং ২০ অক্টোবর বারাসতের ৪৮ বছর বয়সী বুবাই পালের সান্দাকফু সফরে গিয়ে প্রাণহানি ঘটে। এর আগেও গত বছর বেশ কয়েকজন পর্যটক অক্সিজেনের অভাবে বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত উচ্চতায় তীব্র ঠান্ডায় শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা আচমকা কমে যাওয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়াই এই মৃত্যুর প্রধান কারণ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রেকিং এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, গাইড ও সিঙ্গালিলা ল্যান্ডরোভার অ্যাসোসিয়েশনকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি পথে ওঠার সময় কোনো পর্যটকের মধ্যে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা হাঁটার অসুবিধা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে যাত্রা স্থগিত রেখে তাঁকে নীচে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মানেভঞ্জন থেকে চড়াই পথে যাতায়াতকারী প্রতিটি ল্যান্ডরোভার গাড়িতে ফার্স্ট এইড কিট, পর্যাপ্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বর রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ল্যান্ডরোভার অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানানো হলেও, টংলু ও টুংলিঙের মাঝামাঝি জায়গায় একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির দাবিও তোলা হয়েছে। সুতরাং, পাহাড়ি সৌন্দর্যের টানে পাহাড়ে পা বাড়ানোর আগে শরীর পুরোপুরি ফিট কি না, তা নিশ্চিত করাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *