কলকাতা: কালীপুজোর ঠিক মুখেই তিলোত্তমার বাতাসে মিলল বড় স্বস্তি। প্রতি বছর উৎসবের মরশুম শুরু হতেই কলকাতার বায়ুদূষণের সূচক ২০০ বা তারও উপরে চলে যায়। কিন্তু এ বছর ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। সাইক্লোন ‘অর্ণব’-এর জেরে কলকাতার বাতাসের গুণমান একধাক্কায় অনেকটাই ভালো হয়ে গেছে। মঙ্গলবার শহরের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই (AQI) নেমে এসেছে মাত্র ৯৮-এ। যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই কম এবং নগরবাসীদের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর।
সাধারণত দীপাবলির বহুদিন আগে থেকেই শহরের বায়ুদূষণ বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছাতে শুরু করে। কিন্তু এ বার প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা আর জলবায়ুর পালাবদলে পাল্টে গেছে হিসাব। পরিবেশবিদদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে জোড়া কারণ—প্রথমত, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে রাজ্যে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে; এবং দ্বিতীয়ত, চলতি বছরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকা। দুর্গাপুজোর সময়ও নিম্নচাপের বৃষ্টিতে ধুয়ে গিয়েছিল শহরের ধুলোবালি। ফলে উৎসবের মরশুমেও দূষণের সেই চেনা চড়াই-উতরাই দেখা যায়নি।
তবে এই স্বস্তি কত দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। পরিবেশপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আসল চ্যালেঞ্জ লুকিয়ে রয়েছে খোদ কালীপুজো এবং দীপাবলির রাতে। পরিবেশবিদ সোমেন্দ্রমোহন ঘোষের মতে, “ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এখন বাতাস পরিষ্কার থাকলেও, দীপাবলির রাতে বাজি পোড়ানোর ধোঁয়া পরিস্থিতি ফের বদলে দিতে পারে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে অত্যন্ত কড়া হাতে এই বিষয়টির মোকাবিলা করতে হবে।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। শহরজুড়ে বিশেষ নজরদারি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশমতো এ বারও বাজি পোড়ানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। রাত ৮টা থেকে ১০টা—এই দুই ঘণ্টাই কেবল বাজি ফাটানোর অনুমতি মিলবে, তাও আবার শর্ত সাপেক্ষে শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি বা গ্রিন ক্র্যাকার্স (Green Crackers) ব্যবহারের ক্ষেত্রেই ছাড় দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। এখন দেখার, নিয়ম মেনে তিলোত্তমার এই নির্মল আকাশ রক্ষা করা যায় কি না।
Leave a comment