কলকাতা: পুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই তিলোত্তমার উপকণ্ঠে ফের এক নৃশংস ও রোমহর্ষক অপরাধের ঘটনা প্রকাশ্যে এল। ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে সুকৌশলে অপহরণ করে ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে অজ্ঞান করে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল।
শুধু তাই নয়, নিগৃহীতার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পরিবারকে ব্ল্যাকমেল করার মতো চরম ঘৃণ্য অপরাধের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বাগুইআটি এলাকায়। নিগৃহীতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বাগুইআটি থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর শনিবার দুপুরে ১৩ বছরের ওই নাবালিকা এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করার নাম করে বাগুইআটির বাড়ি থেকে বিরাটির উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিরাটি থেকে তাকে ব্যান্ডেল এলাকার একটি নির্জন হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেখানে তাকে জোর করে ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে কোনও মাদকজাতীয় বস্তু খাইয়ে অচৈতন্য করা হয়। এরপরেই তার ওপর একাধিক ব্যক্তি অত্যাচার চালায় এবং তার গোপন ও আপত্তিকর মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করে রাখে।
পরিবারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়ে বাড়ি না ফেরায় রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তার মা ফোন করেন। সেই সময় নাবালিকা জানায় সে ব্যারাকপুরে বান্ধবীর সঙ্গে আছে এবং রাত সাড়ে দশটা-এগারোটার মধ্যে ফিরে আসবে।
কিন্তু রাত সাড়ে এগারোটার পরেও তার কোনও খোঁজ না মেলায় ফের যোগাযোগ করা হলে এক অপরিচিত ব্যক্তি ফোন ধরে দাবি করেন যে, রাস্তায় কাঁদতে দেখে তিনি মেয়েটিকে নিজের ফোন ব্যবহার করতে দিয়েছেন। এর ঠিক পরেই রাত বারোটা নাগাদ মা’কে একটি মেসেজ পাঠায় ওই নাবালিকা। সে লেখে যে সে চরম বিপদের মধ্যে রয়েছে। এবং বান্ধবী তাকে এক ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে গেছে।
পরিস্থিতি জটিল হতে দেখে দেবজিৎ সরকার নামের এক যুবক নাবালিকার মাকে ফোন করে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে মেয়ে নিরাপদে রয়েছে। এমনকি দেবজিৎ দাবি করেন, তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং সেখানকার এক পরিচর্যাকারী তাঁকে জানান যে একটি গাড়িতে করে নাবালিকা ইতিমধ্যেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর রবিবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে কান্নাকাট্রি করতে করতে বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরে ওই কিশোরী। পরিবারকে সে জানায়, তাকে গাড়িতে করে এক অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে জোর করে মাদক ও গর্ভনিরোধক ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল এবং একাধিক ব্যক্তি তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।
অভিযোগ, এরপরেই মেয়েটির বান্ধবী-সহ দুটি ছেলে ওই ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে তা নাবালিকা ও তার পরিবারের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে লাগাতার হুমকি দিতে শুরু করে। মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া পরিবার প্রথমে এই ব্ল্যাকমেলের কারণে ভয়ে পুলিশের কাছে যাওয়ার সাহস পায়নি।
তবে পরবর্তীতে সাহস সঞ্চয় করে আজ বাগুইআটি থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
Leave a comment