কলকাতা: রাজ্যে একদিনের ব্যবধানে জোড়া এনকাউন্টার ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। গত মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত এবং মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে বিজেপি নেতা খুনে অভিযুক্ত—উভয় ক্ষেত্রেই পুলিশের এনকাউন্টার নিয়ে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে নানান জল্পনা। একদল যেখানে পুলিশের এই অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, ঠিক তখনই কড়া বার্তা দিয়ে অপরাধ দমনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন শাসকদলের মন্ত্রী ও নেতারা। আর এই গোটা পরিস্থিতি নিজের মতো করে ফুটিয়ে তুলতে কলম ধরেছেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা আসানসোলের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর স্বরচিত কবিতা পোস্ট করতেই তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে।
অগ্নিমিত্রার কবিতার লাইনগুলো যেন বর্তমান পরিস্থিতির এক জীবন্ত ছবি। তিনি লিখেছেন, “অপরাধ থামুক, মানুষ বাঁচুক, ভয়ের অন্ধকার দূরে যাক। যে হাতে মানুষের নিরাপত্তার ভার, সেই হাত রুখুক অপরাধ বারবার।” কবিতার মাধ্যমে তিনি আরও যোগ করেছেন যে, রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি থাকা উচিত সাধারণ মানুষের পাশে, যাতে রাজ্যের প্রতিটি ঘরে আবার শান্তির সকাল ফিরে আসে। অপরাধ দমনে কোনো রকম আপস না করে চরম দৃঢ়তা দেখানোর পক্ষেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। অন্যদিকে, দিল্লি সফর শেষে কলকাতায় ফিরে এই জোড়া এনকাউন্টার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মহিলাদের ওপর অত্যাচার এবং নেশামুক্তির মতো গুরুতর বিষয়ে পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ আধিকারিকরা কোনো সমস্যায় পড়লে স্বয়ং পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজেই তাঁদের ঢাল হয়ে দাঁড়াবেন। পশ্চিমবঙ্গকে পুরোপুরি গুন্ডামুক্ত করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর আগেও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে কলম ধরতে দেখা গেছে অগ্নিমিত্রা পালকে। চলতি বছরের ৯ আগস্ট রাজ্যজুড়ে পালিত অভয়া দিবসেও আসানসোল জেলা হাসপাতালে স্বরচিত কবিতা পাঠ করে সকলের নজর কেড়েছিলেন তিনি। তবে এবারের এই জোড়া এনকাউন্টারের আবহে মন্ত্রীর এই কবিতা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন বিরোধী থেকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছে, তখন অন্যদিকে সরকারের মন্ত্রী ও শীর্ষনেতাদের এমন কঠোর অবস্থান এবং আইনি ব্যবস্থার সপক্ষে সওয়াল প্রমাণ করছে যে, আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে চলেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসন যে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে, এই জোড়া এনকাউন্টার এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তারই এক স্পষ্ট ইঙ্গিত।
Leave a comment