ঢাকা: তারেকের বাংলাদেশের কী অবস্থা তা হাড়ে হাড়ে টের পেল ভারতীয় ফুটবল দল। ঢাকায় পা রেখে চরম প্রশাসনিক অব্যবস্থার মুখে পড়তে হল। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছেই টিম ম্যানেজমেন্ট জানতে পারে, নির্ধারিত হোটেলে দলের জন্য কোনও ঘরই বরাদ্দ করা নেই। ঘরের চাবি না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় বা হোটেলের বাইরে অপেক্ষা করতে হয় ফুটবলারদের। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচের আগে ঢাকা ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের এই গাফিলতি নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতীয় ক্রীড়া মহলে প্রবল শোরগোল শুরু হয়েছে।
ঢাকায় পা রাখতেই হোটেলের বাইরে দীর্ঘ অপেক্ষা
খুদে ও তরুণ তুর্কিদের নিয়ে গড়া ভারতীয় দল মঙ্গলবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিট নাগাদ ঢাকা এসে পৌঁছোয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিমানবন্দর থেকে কোচ নওশাদ মুসার দল সোজা চলে যায় গুলশনের একটি নির্দিষ্ট হোটেলে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরেই ঘটে বিপত্তি। হোটেলের রেজিস্ট্রি খতিয়ে দেখে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট জানতে পারে, দলটির জন্য কোনও রুমই বরাদ্দ করা নেই।
এর জেরে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাতে হয় ফুটবলারদের। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার উপক্রম হলেও যখন কোনও সুরাহা হয় না, তখন বিষয়টি দ্রুত জানানো হয় বাংলাদেশ ফুটবল সংস্থার কর্তাদের।
এই খবর চাউর হতেই সাফ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ব্যবস্থাপনার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পরে অবশ্য বাংলাদেশের ফুটবল কর্তারা তড়িঘড়ি বিকল্প ব্যবস্থার চেষ্টা শুরু করেন। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মতো একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এই ধরনের অব্যবস্থা ভারতীয় দলকে মানসিকভাবে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ফেলেছে।
সিনিয়র দলের নিউজিল্যান্ড সফর ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলগঠনের সমীকরণ
চলতি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরু থেকেই ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে একপ্রস্ত ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। মূলত ফিফা উইন্ডোর নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের বাইরে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ায় ক্লাবগুলি সমস্ত ফুটবলারদের ছাড়তে রাজি হয়নি। এদিকে একই সময়ে ফিফা উইন্ডোতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলতে প্রধান সিনিয়র দল নিয়ে দেশ ছাড়ছে খালিদ জামিলের দল।
আরও পড়ুন: লিও-জাদুতে চুরমার নিউ ইংল্যান্ড, ফের ইতিহাসের সামনে মেসি!
প্রাথমিকভাবে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) দল পাঠাতে নারাজ থাকলেও, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (AFC) মধ্যস্থতা এবং বাংলাদেশের বিশেষ অনুরোধে শেষ পর্যন্ত কোচ নওশাদ মুসার অধীনে একটি অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় এআইএফএফ।
প্রধান কোচ খালিদের দলে সুযোগ না পাওয়া কিছু সিনিয়র ফুটবলার এবং আইএসএলের বেশ কিছু তরুণ মুখকে নিয়ে আপাতত প্রথম দফায় ১৮ জনের দল ঢাকায় নিয়ে এসেছেন মুসা। তবে মালদ্বীপের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সম্পূর্ণ দল হাতে পেয়ে যাবেন তিনি।
মাঠের বাইরে বিতর্কের ছায়া, মাঠের লড়াইয়ে লক্ষ্য ট্রফি রক্ষা
গতবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে শক্তিশালী কুয়েতকে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারত। সেই খেতাব রক্ষা করার কঠিন চ্যালেঞ্জ কাঁধেই এবার ঢাকা জয় করতে এসেছে ‘ব্লু টাইগার্স’রা।
কোচ নওশাদ মুসার সঙ্গে সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিবিয়ানো ফার্নান্ডেজ, যিনি সম্প্রতি আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের কোচের দায়িত্ব সফলভাবে সামলেছিলেন।
টুর্নামেন্টের শুরুতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। তার ওপর ঢাকায় পা রেখে এই অনভিপ্রেত হোটেল জটিলতা দলের প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও ছন্দপতন ঘটিয়েছে। তা সত্ত্বেও সমস্ত প্রতিকূলতা দূরে সরিয়ে তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে গড়া ভারতীয় দল বৃহস্পতিবারের প্রথম ম্যাচে জয়ের ধারা বজায় রাখতে মরিয়া। মাঠের বাইরের এই প্রশাসনিক গোলকধাঁধা পেরিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা মাঠে কতটা নিজেদের মেলে ধরতে পারে, এখন সেটাই দেখার।
Leave a comment