মুম্বই: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সোনালী যুগ থেকে বর্তমান প্রজন্ম।
অধিনায়কত্ব ও নেতৃত্বের চাপ নিয়ে বরাবরই স্পষ্টভাষী ক্রিকেটের ঈশ্বর সচিন তেন্ডুলকর। সম্প্রতি ভক্তদের জন্য আয়োজিত এক ‘আস্ক মি এনিথিং’ (AMA) অধিবেশনে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও তরুণ তুর্কিদের দায়িত্ব নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় বসেছিলেন তিনি।
আর সেখানেই মাত্র ১৫ বছর বয়সে বৈভব সূর্যবংশীর কাঁধে দলীপ ট্রফির মতো প্রতিযোগিতায় সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব তুলে দেওয়া নিয়ে তীব্র সতর্কবার্তা শোনালেন মাস্টার ব্লাস্টার। একইসঙ্গে নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও মহেন্দ্র সিং ধোনির অধিনায়কত্বের প্রশংসার পাশাপাশি গৌতম গম্ভীরের বর্তমান দল নির্বাচন ও দলের ভিতরের পরিবেশ নিয়ে চলা জল্পনাতেও শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি।
বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে সচিনের স্পষ্ট বার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্স করে নজর কেড়েছে তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। ভারতের জাতীয় দল এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে গত কয়েক মাস ধরেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন। এমনকি সদ্য সমাপ্ত দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের দলের সহ-অধিনায়কের গুরুদায়িত্বও বর্তেছিল তার কাঁধে। পূর্বাঞ্চলের নিয়মিত অধিনায়ক ঈশান কিশন ম্যাচের মাঝে একাধিকবার মাঠ ছেড়ে বাইরে চলে যাওয়ায় তরুণ বৈভবের উপরেই অনবদ্য নেতৃত্বের চাপ এসে পড়েছিল।
তবে এই অল্প বয়সে এত বড় দায়িত্ব অর্পণ করার বিষয়টি একেবারেই ভালভাবে নিচ্ছেন না সচিন। ভক্তদের সেই প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সমর্থক যখন বৈভবের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন সচিন সোজাসাপ্টা জানান, “আমার মনে হয়, বড্ড আগে ওকে দলীপ ট্রফিতে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগে ওকে লাল বলে আরও বেশি ম্যাচ খেলতে দেওয়া দরকার। তার পর এক পা করে এগোতে হবে!”
আরও পড়ুন: অকল্যান্ডে বিরাটের অবিশ্বাস্য ক্যাচ! দুরন্ত রোহিতও
সচিনের মতে, সময়ের আগে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে বৈভবের মতো প্রতিভাবানদের ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও পোক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে তারা ধীরে ধীরে আরও পরিণত মানসিকতার অধিকারী হতে পারে।
প্রিয় অধিনায়ক হিসেবে সৌরভ ও ধোনির বন্দনা
নিজের বর্ণময় কেরিয়ারে একাধিক কিংবদন্তি অধিনায়কের অধীনে খেলার দুর্লভ সৌভাগ্য হয়েছে সচিনের। কপিল দেব থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি।
তবে Reddit-এ এক ভক্তের করা প্রশ্নের উত্তরে সচিন পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর প্রিয় অধিনায়কদের তালিকায় সর্বাগ্রে নাম থাকবে দুই সফল নেতার, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির।
নব্বইয়ের দশকের সেই কঠিন ও বিতর্কিত সময়ের কথা স্মরণ করে সচিন বলেন, অধিনায়ক হিসেবে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এক বিরাট সম্মানের বিষয় ছিল, যদিও সেই সময়ে বোর্ডের পেশাদারিত্ব বা দল নির্বাচনে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা সবসময় ছিল না।
তা সত্ত্বেও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০০৩ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সুখস্মৃতি এবং পরবর্তীতে মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জয়ের সোনালী অধ্যায়ের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সচিনের সাফ কথা, “আমার প্রিয় অধিনায়কদের কথা বললে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং এম এস ধোনি নিশ্চিতভাবেই তালিকার শীর্ষে থাকবে!” এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক তেম্বা বাভুমার লড়াকু মানসিকতা এবং তাঁর নেতৃত্বে প্রোটিয়াদের আইসিসি ট্রফি জয় বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড ও গৌতম গম্ভীরের সাহসী অবস্থান
তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় দলের বর্তমান স্কোয়াড নির্বাচন এবং কম্বিনেশন নিয়েও কাটাছেঁড়া চলছে জোরকদমে। টি-টোয়েন্টি দলে এখনও নিজের জায়গা পুরোপুরি পাকা করে উঠতে পারেনি অনেকেই। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর এই দল নির্বাচন ও কম্বিনেশন নিয়ে মুখ খুলেছিলেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর।
স্পষ্ট ভাষায় গম্ভীর জানিয়েছিলেন, “প্রথমত, সকলকে খুশি করা আমার কাজ নয়। আমার কাজ হল সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। সেটা জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। সেই জন্যই আমি এখানে রয়েছি। জনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব সহজ। কিন্তু আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সাজঘরের ভিতরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।” সচিন তেন্ডুলকরের দূরদর্শী পরামর্শ এবং ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের এই কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নীতি আদতে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ভিতকেই যে আরও শক্ত করতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
Leave a comment