•
Home Top-News লালকৃষ্ণ নটআউট ৯৯! শুরু শতায়ু কামনায় প্রার্থনা
Top-Newsদেশ

লালকৃষ্ণ নটআউট ৯৯! শুরু শতায়ু কামনায় প্রার্থনা

Share
পরিবারের সঙ্গে লালকৃষ্ণ আদবাণী।
Share

নয়াদিল্লি: এক দিকে নয়াদিল্লির অশোক রোডের পুরনো স্মৃতি, অন্য দিকে দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের আধুনিক সদর কার্যালয়ে গমগমে আবহ। এই দুই ভিন্ন সময়ের মেলবন্ধনে ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাস যাঁকে প্রতিনিয়ত ছুঁয়ে গিয়েছে, তিনি লালকৃষ্ণ আদবাণী। রবিবারে পা দিলেন জীবনের ৯৯ বছরে। অর্থাৎ, ছুঁয়ে ফেললেন শততম বছরের মহার্ঘ্য দেউল। 

আর এই মাইলফলকের দিনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এই সর্বজ্যেষ্ঠ কাণ্ডারিকে অনন্য শ্রদ্ধার্ঘ্য জানালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক দীর্ঘ, সংবেদনশীল এবং তথ্যঋদ্ধ প্রবন্ধে মোদী স্মরণ করালেন কী ভাবে এক জন দেশভাগ-পীড়িত শরণার্থী থেকে শুরু করে আধুনিক ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রের প্রধান স্থপতি হয়ে উঠেছিলেন লালকৃষ্ণ আদবাণী।

দেশভাগের রক্তঝরা পটভূমিকায় ১৯৪৭ সালে নিজের ভিটেমাটি করাচি ছেড়ে ভারতে আসতে হয়েছিল তরুণ আদবাণীকে। শূন্য থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিকূলতাকে জয় করার যে অপরাজেয় মানসিকতা, তাকেই আদবাণীর রাজনৈতিক জীবনের মূল শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। 

তাঁর কথায়, “আধুনিক ভারতের এতগুলো ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সঙ্গে খুব কম নেতার জীবনই এমন নিবিড় ভাবে জড়িয়ে রয়েছে।” সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবে রাজস্থানের ধূলিধূসরিত পথ চলা থেকে শুরু করে ১৯৬৭ সালে দিল্লি মেট্রোপলিটন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, জনসঙ্ঘের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন থেকে বিজেপির আজকের মহীরুহ হয়ে ওঠার পিছনে আদবাণীর অবদানকে জাতীয় রাজনীতির ‘অপরিহার্য স্তম্ভ’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন মোদী।

আরও পড়ুন: দীপাবলিতে এবারও সীমান্তে প্রধানমন্ত্রী! দেশবাসীকে বার্তা মোদীর

প্রবন্ধে মোদী বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন ভারত রত্ন অটলবিহারী বাজপেয়ী এবং লালকৃষ্ণ আদবাণীর বহু দশকের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা। ভারতীয় রাজনীতিতে দুই শীর্ষ নেতার এমন পারস্পরিক বিশ্বাস এবং দীর্ঘকালীন যৌথ নেতৃত্ব বিরল। 

মোদীর মতে, অটল-আদবাণী জুটি প্রমাণ করেছিল যে, শীর্ষ পদে থেকেও কী ভাবে ব্যক্তিস্বার্থ বা প্রতিযোগিতাকে দূরে সরিয়ে রেখে ‘রাষ্ট্র প্রথম’ নীতিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগঠন চালানো যায়। এই পথ চলাই অবশেষে ১৯৯৬ সালে বিজেপিকে প্রথমবারের জন্য সংসদের একক বৃহত্তম দল হিসেবে তুলে ধরেছিল।

স্মৃতির পৃষ্ঠা উল্টে প্রধানমন্ত্রী নিজের রাজনৈতিক জীবনের গোড়ার দিকের বেশ কিছু অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন। ১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচনে গাঁধীনগর কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েছিলেন আদবাণী। তৎকালীন দলীয় কর্মী নরেন্দ্র মোদীর ওপর দায়িত্ব পড়েছিল আদবাণীর মনোনয়নপত্র প্রস্তুত করা এবং প্রচারের কাজ পরিচালনা করার। মোদী স্মরণ করেছেন, কী ভাবে এক জন প্রবীণ নেতা নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকতেন এবং নিজেও বহুবার গাঁধীনগরে আদবাণীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

জরুরি অবস্থার সেই অন্ধকার দিনগুলোতে ১৯৭৫ সালে আদবাণীর কারাবাস এবং পরবর্তীকালে তাঁর লেখা ‘এ প্রিজনার্স স্ক্র্যাপ-বুক’ বইটির কথা মোদী শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন। বইটির ‘এ টেল অফ টু ইমার্জেন্সিজ’ অধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, কী ভাবে ১৯৭৫-এর ভারতের জরুরি অবস্থা এবং ১৯৩৩-এর জার্মানির হিটলারি শাসনের তুলনা টেনেছিলেন আদবাণী। 

পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালের জনতা সরকারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাজপেয়ী মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে আদবাণীর শক্ত হাতের ভূমিকাও স্মরণ করেন তিনি।

আদবাণীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম মোড় ঘোড়ানো অধ্যায় ছিল ঐতিহ্যবাহী সোমনাথ-অযোধ্যা রথযাত্রা। সেই ইতিহাস সৃষ্টিকারী রথযাত্রার পরিকল্পনার সূচনা থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন, প্রতিটি ধাপে ছায়ার মতো সঙ্গে ছিলেন মোদী নিজেই। 

আদবাণীর অসামান্য শারীরিক ও মানসিক শক্তির কথা তুলে ধরে মোদী লিখেছেন, দিনভর দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করা এবং দেশের কোণে কোণে পৌঁছে মানুষের সামনে দলের বার্তা তুলে ধরার যে শারীরিক সহনশীলতা আদবাণী দেখিয়েছিলেন, তা তরুণ রাজনীতিকদের জন্য এক অনন্ত অনুপ্রেরণা।

রবিবার এই মহতী উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছিল এক বিশেষ সংবর্ধনা সভার। সকাল ১০টায় বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পূজা ও মহাযজ্ঞের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। আদবাণীর জীবন, ঐতিহাসিক ভাষণ এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সফর নিয়ে তৈরি একটি ২০ মিনিটের বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। উপস্থিত থেকে স্মৃতিচারণ করেন আদবাণীর কন্যা প্রতিভা আদবাণীও।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শতবর্ষের সূচনা কেবল এক প্রবীণ রাজনীতিকের জন্মদিন উদযাপন নয়, বরং ভারতীয় রাজনীতির এক ঐতিহাসিক অধ্যায়কে পুনরায় ঝালিয়ে নেওয়ার মুহূর্ত।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *